৭১ এর গণহত্যা ও পাকিস্তানের বর্বরতা

সম্প্রীতি কার্যক্রম-১
শেয়ার করুন

জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, এম.পি। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্য আরমা দত্ত এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক বীরপ্রতীক কর্ণেল তৌফিকুর রহমান (অব.), শহীদ সন্তান নট কিশোর আদিত্য।
সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা . মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় সভাপতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহবায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনাসভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ১৯৭১ সালে গণহত্যা চালানোর জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে। এটা এখন স্বতঃসিদ্ধ ও প্রমাণিত। এখানে ম্যাসাকার হয়েছে, গণহত্যা হয়েছে। বাংলাদেশের ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও তিনি জানান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শিল্পমন্ত্রী স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে থাকার কারণেই হয়তো বেঁচে গিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সে সময় তারা হত্যা করতে পারেনি কারণ, ইন্টারন্যাশনাল যে চাপ ছিল তাতে তাদের স্বীকার করতে হয়েছে বঙ্গবন্ধু সেখানে আছেন। তারা যেহেতু বলেছে, সেখানে আছেন, তখন তাদের উল্টো দায়িত্ব হয়ে যায় বঙ্গবন্ধুকে বাঁচানো। আমার বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু এ দেশে থাকলে তাকে মেরে ফেলত। কিন্তু যেহেতু তিনি তাদের কাছে ছিলেন সবাই জানে, সারা বিশ্ব জানে তিনি পাকিস্তান কারাগারে আছেন। এ জন্য আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় তিনি বেঁচে গেছেন।

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন আরও বলেন, দেশীয়, আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিকভাবে তার যে দূরদর্শিতা ছিল, তা তিনি (বঙ্গবন্ধু) প্রমাণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করলেন। তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বাঙালি জাতিকে আবারও শেষ নির্দেশনা দিলেন ‘আমি যদি নির্দেশনা দিতে নাও পারি তবে তোমরা ঘরে ঘরে প্রস্তুত হয়ে যাও’।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাসও আছে। পাক হানাদার বাহিনীর সে সময়কে বলে গোলমালের বছর। এগুলো তারা বাইপাস করে গেছে। তবে তাদের গণহত্যার কথা স্বীকার করতে হবে। এ জন্য অবশ্যই পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে। বাংলাদেশের সত্যিকারের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যাসহ তাঁর পরিবারের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার কথা তুলে ধরেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। ২০১৭ সাল থেকে জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে স্বীকৃতির দেওয়ার কথা হয়েছে। সারা দেশের দাবি ‘২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ পালন করা হোক।

সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৭ সাল থেকে জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালনের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এই অবস্থায় গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.