সম্প্রীতি সমাবেশ: ঘোষণাপত্র

সংবাদ পাতা
শেয়ার করুন

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক সংগঠন সমূহের অংশগ্রহণে

সম্প্রীতি সমাবেশ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা

২৫ অক্টোবর ২০২১, সোমবার

 

 

একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে অশুভ রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি মাঝে মাঝে  মাথা চাড়া দিয়েছে। আর সে কারণেই আমাদের একত্রিত হওয়া প্রয়োজন। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন না থাকলে সমাজকে আমরা একত্রিত করতে পারবো না। সবাই একত্রিত হতে পারলে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলা করা কঠিন হবে না।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আমাদের সমাজ-মানসে যে নেতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। পঁচাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি অন্ধকারে চলে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন অন্ধকারে থাকায় এই অশুভ চক্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। তারা রাজনীতি থেকে সুবিধাও নিয়েছে। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দেখার জন্য এদেশের বীর শহীদরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায় সেজন্য শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের অসম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে সামনের বৈতরণী পার হতে এবং একইসঙ্গে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী চক্র ও একাত্তরের পরাজিত শত্রু সমাজের সকল ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতার বিষ অত্যন্ত সুচতুরভাবে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের চিরায়ত দর্শনকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে। একাত্তরের পরাজিত শত্রু ছাড়াও এক শ্রেণির লোভি ও স্বার্থান্বেষি মহল হীন স্বার্থ হাসিলে তৎপর। দেশ ও জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়কি দর্শন থেকে বিচ্যুত করার ক্ষেত্রে এমনি নানাবধি কারণ ক্রমশ আজ স্পষ্টতর হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। সম্মিলিতভাবে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

 

এই ভূ-খণ্ডে, বর্তমান বাংলাদেশে, হাজার বছর ধরে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, চাকমা, সাঁওতালসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এক সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছে বলেই সব স্রোত এক ধারায় এসে মিলিত হয়ে বাঙালি সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী। আমাদের মুক্তিসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর অভূতপূর্ব বিজয় অর্জনে এককভাবে যে উপাদানটি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তা হলো বাঙালি সংস্কৃতির শক্তি। আর বাঙালি সংস্কৃতির মূল কথা হলো, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতি। এটা না থাকলে বাংলাদেশ থাকে না। বাংলাদেশের নামের খোলসে হয়তো সেটি অন্য কিছু হয়ে যায়। আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির হৃদয় স্পর্শ করে বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব, উন্নতি, মর্যাদা এবং শক্তির অন্যতম অবলম্বন হবে বাঙালি সংস্কৃতিপ্রসূত অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রনীতি। তাই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম মৌলিক আদর্শ হিসেবে সন্নিবেশিত করলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ধারা যোগ করে রক্ষাকবচ তৈরি করলেন, যাতে ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি কেউ আর বাংলাদেশে করতে না পারে। বঙ্গবন্ধু কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারই ধারাবাহিকতায়, জাতির জনকের আদর্শের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ধরে রাখতে সচেষ্ট। অথচ একটি চিহ্নিত অপশক্তি সব সময় সুযোগ পেলেই এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালায় ।

 

বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক সম্প্রীতির দেশ। এদেশের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী হলেও বাঙালী সংস্কৃতি ও চেতনা এর মূল চালিকাশক্তি। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পেছনের চালিকাশক্তি ছিল এই অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য। ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের উগ্র আক্রমণে উদ্বিগ্ন। ধর্মীয় ঘৃণাকেই ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক গুটির চাল হিসাবে। বাংলাদেশেও এক শ্রেণীর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী রাষ্ট্র ও দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এই স্পর্শকাতর হাতিয়ারকে ব্যবহার করছে ।

 

আজকের এই সমাবেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়কি সংগঠন সমূহের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়কি সগহিংসতার তীব্র নিন্দা করছে। আমরা মনে করি সকলের সম্মিলিত চেষ্টা অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

আপনারা জানেন, এই ভূখণ্ডে, বর্তমান বাংলাদেশে, হাজার বছর ধরে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান, চাকমা, সাঁওতালসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এক সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছে বলেই সব স্রোত এক ধারায় এসে মিলিত হয়ে বাঙালি সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী। আমাদের মুক্তিসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর অভূতপূর্ব বিজয় অর্জনে এককভাবে যে উপাদানটি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তা হলো বাঙালি সংস্কৃতির শক্তি। আর বাঙালি সংস্কৃতির মূল কথা হলো, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতি। এটা না থাকলে বাংলাদেশ থাকে না। বাংলাদেশের নামের খোলসে হয়তো সেটি অন্য কিছু হয়ে যায়।

আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাঙালি জাতির হৃদয় স্পর্শ করে বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব, উন্নতি, মর্যাদা এবং শক্তির অন্যতম অবলম্বন হবে বাঙালি সংস্কৃতিপ্রসূত অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রনীতি। তাই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম মৌলিক আদর্শ হিসেবে সন্নিবেশিত করলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ধারা যোগ করে রক্ষাকবচ তৈরি করলেন, যাতে ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি কেউ আর বাংলাদেশে করতে না পারে। বঙ্গবন্ধু কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারই ধারাবাহিকতায়, জাতির পিতার আদর্শের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ধরে রাখতে সচেষ্ট। অথচ একটি চিহ্নিত অপশক্তি সব সময় এদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পেছনের চালিকাশক্তি ছিল এই অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য। সারা পৃথিবী আজ পরাশক্তির স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পরে ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের উগ্র আক্রমনে উদ্বিগ্ন। ধর্মকে অপব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক গুটির চাল হিসাবে। বাংলাদেশেও এক শ্রেণির ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এই স্পর্শকাতর হাতিয়ারকে ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক দেশের তকমা লাগানোর জন্য দেশের অভ্যন্তরে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠীর পাশাপাশি আর্ন্তজাতকি গোষ্ঠী অত্যন্ত সক্রিয়।

হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব মিলিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার যুদ্ধ একাত্তর। ফলে নতুন মানচিত্র বা পতাকাই নয়, আমরা ১৯৭২ সালে পেয়েছি একটি সেক্যুলার গণতান্ত্রিক সংবিধান।

সাম্প্রদায়িকতা জিনিসটা যে কেমন নির্মম, কদর্য ও ক্ষতিকারক, সেটা আমরা অবশ্যই জানি। এই সাম্প্রদায়িকতার কারণে দুটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ পরস্পরকে ঘৃণা করে। পারস্পরিক সংঘর্ষেরও জন্ম দেয়। রক্তপাত ঘটে।

সমাজে সম্প্রীতি সৃষ্টির দায়টা যেমন রাষ্ট্রযন্ত্রের ও রাজনৈতিক দলের, তেমনি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সক্রিয় লাগাতার তৎপরতার বিষয়টিও বহুমাত্রিক। মানসিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন শৈশবে সেক্যুলার পারিবারিক শিক্ষা, প্রাথমিক শক্ষিাস্তরে অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা, সমাজবদলের জন্য শহরে ও গ্রামে লাগাতার প্রচার। এ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সম্প্রীতি বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক জনসংশ্লিষ্টতায় একটি সেক্যুলার মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজ গড়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে গ্রহণ করতে চায়।

এই বোধ থেকেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আজকের এই মতবিনিময় সভা। আমরা  যারা সম্প্রীতির আদর্শ ধারণ করি, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাসী, আসুন সর্বত্র সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে আজ একত্রতি হই । গড়ে তুলি সম্প্রীতির বাংলাদেশ ।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.