সম্প্রীতি সংলাপ

লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পাতা

সম্প্রীতি সংলাপ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের পর বঙ্গবন্ধুর প্রিয় বাংলাদেশটাই যেন সাম্প্রদায়িক অপশক্তির অভয়ারণ্যে পরিনত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ভাবমূর্তি ধ্বংসের নিষ্টুর খেলায় মেতে ওঠে ধর্মান্ধ বর্বরের দল। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় উগ্রবাদী ধর্মান্ধদের নৃশংতায় দিনে দিনে এতটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে প্রকৃত ধর্ম বিশ্বাসীরা ক্রমশ ভীত হতে থাকেন।
দীর্ঘ ৬ বছর পরবাস জীবন কাটিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফিরে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করলে শুভবাদী জনগোষ্ঠী যেন কিছুটা হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন।
কিন্তু উগ্রবাদীদের আস্ফালন সেই আগের মতই চলতে থাকে। সেই সাথে যুক্ত হয় জঙ্গীবাদের ভয়াবহ নিষ্টুরতা। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যার অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বিনষ্ট করতে দেশ জুড়ে বছরের পর বছর ধরে ঘটে নানামূখী নৃশংস ঘটনা।
১৯৮৮ সালে চট্রগ্রামের লালদীঘি ময়দান, ২০০০ সালে কোটালীপাড়া, ১৯৮৯ সালে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারের বাসভবনে বোমা হামলা এবং ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড আক্রমণে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চলে। এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় মোট ১৯ বার।
বাংলা ভাই ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের নির্মমতা, দেশের প্রতিটি জেলায় একই সময়ে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ, বানিয়ার চরের গির্জায় এবং রামুর বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংস, চট্রগ্রামের গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী এবং পাবনায় পুরোহিত হত্যা ইত্যাদি ঘটনার মাধ্যমে দেশটা যেন জঙ্গী ও উগ্রবাদীদের বাধাহীন বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। পাশাপাশি যশোরে উদীচি সম্মেলন, রমনায় বাংলা নববর্ষের বটমূলে আঘাত করে জঙ্গীবাদ যে জঘন্য কাজ করে তা বাংলার ঐতিহ্যিক সংস্কৃতির প্রতি ছিল এক ভয়াবহ অশণি সংকেত। জঙ্গীবাদের হাত থেকে সিনেমা হলের দর্শক এবং সার্কাস দলের নিরিহ পশুও রেহাই পায়নি। পাশাপাশি চলে ধর্মভীরু মানুষদের মাঝে ধর্মের অপব্যখ্যা করে দেশ, মানুষ, ঐতিহ্য ইত্যাদি বিষয়ে সংঘবদ্ধ প্রচারণা। সব মিলিয়ে একটা পর্যায়ে ধারনা হচ্ছিল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বঙ্গবন্ধুর ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী জঙ্গীদের চারণভ‚মি হয়ে উঠেছে। দূর্গম পাহাড়ে, জঙ্গলে, বিরান চরাঞ্চলে জঙ্গীদের অস্ত্রের ঝনঝনানির আওয়াজে ভীত হয়ে ওঠে দেশের আপাত শান্ত ও নিরিহ তৃনমূলের মানুষ।
সর্বশেষে ২০১৬ সালে রাজধানীর সম্ভ্রান্ত এলাকায় হলি আর্টিজান বেকারীতে ঘটে যাওয়া নৃশংসতা বিশ্বমাঝে বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে এবং আইন শৃঙ্খলা বহিনীর তৎপরতায় দেশ অনেকটাই শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে এসেছে। তবু গণমাধ্যমে প্রাপ্তÍ উগ্র জঙ্গীবাদ ও ধর্মান্ধ মৌলবাদের তথ্য শুভবাদী মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলে বৈ কি !
সম্প্রীতি বাংলাদেশ মনে করে যে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ তৎপরতা এবং সরকারের জিরো টলারেন্স এর পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করার কাজ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদের দৌরাত্বে সমানভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ দেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ।
তাই জনমনে আস্থা ও অসাম্প্রদায়িকতার সঠিক বার্তা পৌছে দিতে জেলা/ উপজেলায় সম্প্রীতি সংলাপ/ সম্প্রীতি সমাবেশের নিয়মিত আয়োজন করছে সম্প্রীতি বাংলাদেশ। এই সব সমাবেশে দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, ধর্মনিরপেক্ষতা, বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি ইত্যাদি বিষয়ে শুভ ব্যাখ্যা দিয়ে জনমত সৃষ্টি করেন ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ধর্মের শ্রদ্ধাভাজন নেতৃবৃন্দ। সাথে থাকেন সর্ব পেশার স্থানীয় শুনীজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *