‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ প্রথম মতবিনিময় সভা

সংবাদ পাতা
শেয়ার করুন

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত ২৫ মার্চ ২০১৮ রবিবার, দুপুর একটার সময় রাজধানীতে প্রথম মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের গুণীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার এতো বছর পরও দেশ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। বরং জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা চাড়া দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার মনে হয়েছে সম্প্রীতি বাংলাদেশের জন্য আমাদের একত্রিত হয়ে কাজ করা উচিত।’
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.), ফিরোজ আহমেদ, সাংবাদিক বরুন ভৌমিক নয়ন, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, সাংবাদিক সলিমউল্লাহ সেলিম, ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল), ডা. নুজহাত চৌধুরী, সাংবাদিক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, শাহেদ হাসান, সাংবাদিক শফিকুর রহমান, সাংবাদিক স্বদেশ রায়, ছড়াকার আলম তালুকদার, অর্তনীতিবিদ ড. আর এম দেবনাথ, সাংবাদিক স্বপন দত্ত, মাহবুব নেওয়াজ চৌধুরী, হাসান উজ-জামান, কবি নাসির আহমেদ, অশোক বড়–য়া, সাংবাদিক প্রণব সাহা, ফিরোজ কবীর প্রমুখ।
মত বিনিময় অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক রাহাত খান বলেন, ‘আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলন না থাকলে সমাজকে আমরা একত্রিত করতে পারবো না। সমাজের প্রত্যেক মানুষকে বোঝানো আমাদের দায়িত্ব। এজন্য মজবুত সংগঠনের প্রয়োজন। তাই সবাইকে একটি শক্তিশালী সংগঠনের কাছে আনা প্রয়োজন। সবাই একত্রিত হতে পারলে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলা করা যাবে। পাকিস্তান আমল থেকে দ্বিজাতি তত্ত¡ আমাদের ভুল জাতিয়তাবাদ শিখিয়েছে। তার মাশুল আমরা এখনো দিচ্ছি। আমরা বাঙালি। বাঙালি সাধারণ মানুষ চিরকাল ছিল অসম্প্রদায়িক।’
মতবিনিময় সভায় মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.) বলেন, ‘পঁচাত্তরের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্ধকারে চলে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন অন্ধকারে থাকায় এই অশুভ চক্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। তারা রাজনীতি থেকে সুবিধা নিচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন অঙ্গন থেকে ঐক্যবদ্ধ করা প্রয়োজন। ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ গঠন করা হলে মানুষকে বলতে পারি- অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে বলেছিলেন, আমরা মুক্তি চাই। ধর্মের নামে আমাদের যেভাবে শৃঙ্খলিত করা হয়েছে, সেখান থেকে মুক্তির কথা বলেছিলেন জাতির জনক।’
সভায় একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘বাংলাদেশর শাসনতন্ত্রে চারটি মূল নীতি আছে। যে চারটি নীতি না মানে সে বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারে না।’
মতবিনিময় সভায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সদ্য সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান (একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য) বলেন, ‘জাতির জনকে হত্যার পর, পাকিস্তানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। সামরিক শাসন এলে বাংলাদেশটা থাকে না। এটা হয়ে যায় পূর্ব পাকিস্তান। পীযূষ যে উদ্যোগ নিয়েছেন তার সঙ্গে আমি আছি।’
ছড়াকার আলম তালুকদার বলেন, ‘যে দেশে আইন পুরোপরি বাস্তবায়িত না হয়, সেখানে ধর্মের ওপর নির্ভরতা ততই বাড়বে। এই জায়গায় রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।’
সভায় ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, ‘একটি অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দেখবো, সেজন্য আমার বাবার আত্মাহুতি। আমার বাবার রক্ত যেন বৃথা না যায় সেজন্য আমাদের একত্রি হতে হবে। বারবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে যেতে হবে। আমরা কোনো কাজে যতক্ষণ ধর্মভিত্তিক চিন্তা করবো, ততক্ষণ আমরা নিজেদের একটি গ­ির মধ্যে রাখছি। ধর্ম একটি আবেগের জায়গা, এটা রাষ্ট্রের কোনো বিষয় নয়। আমি নিজেকে মানুষ হিসেবে মনে করি, তাহলে মানবিকতার জায়গাই প্রধান হতে হবে। এজন্য তরুণ প্রজš§কে টেনে আনার জন্য যথাসাধ্য কাজ করতে হবে। কারণ আমাদের ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দিতে পারিনা। নিজের মর্যাদা রাখবার জন্য একটি মানবিক প্লাটফর্ম দরকার। আমরা চাই মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান দিতে হবে। একটা মানবিবতা বোধে উজ্জিবিত হয়ে একটা মানবতা সমাজ প্রতিষ্ঠা করবো।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *