সম্প্রীতি বাংলাদেশ পথচলার কথা

কার্যক্রম পাতা
শেয়ার করুন

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত কয়েকমাস ধরে আমরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় সভা করেছি। রাজধানীতে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এসব মতবিনিময় সভায় এসে এই সংগঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এর বাইরে দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সঙ্গে আমরা ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে কথা বলেছি। সবার কথায় এটাই প্রতিফলিত হয়েছে যে, একটি অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার এতো বছর পরও দেশ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। বরং সময়ের পরিবর্তনে অশুভ রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা চাড়া দিয়েছে। আর সে কারণেই আমাদের একত্রিত হওয়া প্রয়োজন। সম্প্রীতির সেই বাংলাদেশের জন্য একত্রিত হয়ে কাজ করা উচিত।
এসব মতবিনিময় সভায় যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তারা হলেন- সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক রাহাত খান, নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি বিশ্লেষক মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.), ফিরোজ আহমেদ, একুশে প্রদক প্রাপ্ত কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল), শহীদ কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী, সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, অধ্যাপক শাহেদ হাসান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, দৈনিক জনকণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, ছড়াকার আলম তালুকদার, অর্থনীতিবিদ ড. আর এম দেবনাথ, সাংবাদিক স্বপন দত্ত, মাহবুব নেওয়াজ চৌধুরী, হাসান উজ-জামান, কবি ও সাংবাদিক নাসির আহমেদ, অশোক বড়ুয়া, সাংবাদিক প্রণব সাহা, মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ কবীর, নুমান আহম্মদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর, কবি ও সাংবাদিক শিহাব সরকার, সেক্টর কমান্ডারর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব, মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর, মুক্তিযোদ্ধা আরমা দত্ত, দীপক আচার্য, সাংবাদিক কুদ্দুস আফ্রাদ, সাবেক ছাত্রনেতা বলরাম পোদ্দার, সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার, সাংবাদিক আনোয়ার কবির, অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূইয়া, কবি ও গবেষক বিলু কবীর, সাংবাদিক জুলফিকার আলী মানিক, রবিউল হাসান অভি, মো. শহিদুজ্জামান, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রতিষ্ঠাতা সাইদুর রহমান প্যাটেল, এসএম শাহ্রিয়ার রুমী, পীযূষ বড়ুয়া, সুদীপ্ত কুমার দাস, সত্য গোপাল পোদ্দার, বিশ্ববিদ্যায় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী তিমির নন্দী, মুক্তিযোদ্ধা কাজি সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক, শেখ মাসুদ কামাল, নগিবুল ইসলাম বিপু, পিন্টু ভট্টাচার্য্য, সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জন গমেজ (অব.), স্থপতি শামসুল ওয়ারেস, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব এ কে এম আতিকুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল সি. কে. দাস (অব.), পান্নালাল দত্ত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রবীর সাহা, ওয়ালিউল ইসলাম, সরিত কুমার লালা, সাংবাদিক টিটু দত্ত গুপ্ত, মুক্তিযোদ্ধা রাফিয়া আখতার ডলি, একুশে প্রদক প্রাপ্ত কবি রবিউল হুসাইন, মেজর আশীষ মজুমদার পিএসসি (অব.), ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ বীর প্রতীক, ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রম, এনায়েত রাব্বী, শফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম, সাবেক ক‚টনীতিক মহিউদ্দিন আহমেদ, একুশে প্রদক প্রাপ্ত কবি হায়াৎ সাইফ, সাংবাদিক প্রণব সাহা, কবি সুজন বড়ুয়া, কবি বিমল গুহ, সাংবাদিক আমান উদ দৌলা, সাংবাদিক জায়েদুল আহসান পিন্টু, শিল্পী রোকেয়া প্রাচী, ড. সাজেদুল আউয়াল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ড. মুহাম্মদ সামাদ, সাংবাদিক সুমি খান, খোরশেদ বাহার, সুজিত চৌধুরী, ব্যারিস্টার সোহরাব চৌধুরী, প্রমোদ দত্ত, সাংবাদিক দীপংকর গৌতম, কবি ডা. হারিসুল হক, অভিনেতা শংকর শাঁওজাল, মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম চৌধুরী (অব.), সাবেক সচিব সুনিল কান্তি বসু, সাংবাদিক বরুন ভৌমিক নয়ন, সাংবাদিক সলিমউল্লাহ সেলিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খায়রুল মজিদ মাহমুদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রবীর সাহা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজাউল করিম, বরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খান, গবেষক ও লেখক শামসুজ্জামান খান, কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সাংবাদিক আবেদ খান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তোফাজ্জল ইসলাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ, রাম কৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেষানন্দ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল অনুপ কুমার চাকমা (অব.), সাবেক রাষ্ট্রদূত এস এস চাকমা, মুক্তিযোদ্ধা মালিক খসরু চৌধুরী, বরেণ্য সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, কবি বদিউজ্জামান খান নাসিম, বিশিষ্ট শিল্পী হাশেম খান, বঙ্গবন্ধু চেয়ার ড. মুনতাসীর মামুন, বিশিষ্ট অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা গবেষক ড. হাসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম, তৌরিদ হোসেন বাদল, মানসুরা হোসাইন, আইনজীবী অশোক কর্মকার, সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তফা করিম, ডা. উত্তম বড়ুয়া, মো. হেলাল উদ্দিন, ডা. মাহবুবুর রহমান, জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
এসব মতবিনিময় সভায় সমাজের বিশিষ্টজনেরা যে বক্তব্য তুলে ধরেন, তাতে এ ধরণের একটি সামাজিক সংগঠনের প্রয়োজনের কথা উঠে আসে। তাঁরা বলেছেন, ‘রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলন না থাকলে সমাজকে আমরা একত্রিত করতে পারবো না। এজন্য মজবুত সংগঠনের প্রয়োজন। তাই সবাইকে একটি শক্তিশালী সংগঠনের কাছে আনা প্রয়োজন। সবাই একত্রিত হতে পারলে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলা করা যাবে। আমরা বাঙালি। বাঙালি সাধারণ মানুষ চিরকাল ছিল অসম্প্রদায়িক।’ ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আমাদের সমাজ-মানসে যে নেতিবাচক পরিবর্তন এনেছে সেকথাও উঠে আসে বিশিষ্টজনদের বক্তব্যে। তাঁরা বলেন, ‘পঁচাত্তরের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্ধকারে চলে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন অন্ধকারে থাকায় এই অশুভ চক্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। তারা রাজনীতি থেকে সুবিধা নিচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন অঙ্গন থেকে ঐক্যবদ্ধ করা প্রয়োজন। ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ গঠন করা হলে মানুষকে বলতে পারি- অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল।’
একটি অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দেখার জন্য এদেশের বীর শহীদরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায় সেজন্য একত্রিত হতে হবে। হয়ত আমরা মাঝে মাঝে হতাশ হই এই ভেবে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী এটাই হয়তো কেউ জানে না। আবার এটাও সত্য যে, বর্তমান সময়টি খুবই কঠিন। মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে সামনের বৈতরণী পার হতে হবে। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। মুক্তিযোদ্ধারা চেয়েছিলেন অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। কিন্তু সেই লক্ষ্য থেকে আমরা পিছিয়ে আছি বলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজটি করা জরুরি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আবার, সম্প্রীতি বিরোধী একটি শক্তিও সমাজে দাঁড়িয়ে গেছে। সে কারণেই আমাদের এখন মানুষের কাছে যেতে হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী সকল ধর্ম, বর্ণ, নারী, পুরুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
সম্মিলিতভাবে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *