শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি: ৭১-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেক বার

প্রবন্ধ পাতা
শেয়ার করুন

  • তাপস হালদার

কথায় আছে, ‘বান্দরকে লাই দিলে মাথায় উঠে’। বিএনপি ও জোটের মিত্ররা এতদিন তাদের কৃতকর্মের জন্য গর্তের ভিতর লুকিয়ে ছিল। তাদের আন্দোলন প্রেসক্লাবের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ আর দলীয় কার্যালয়েই সীমাবন্ধ ছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বললেন, বিরোধী দল গুলোর গনতান্ত্রিক কর্মসূচীতে সরকার বাধা দিবেনা। তখনই অগনতান্ত্রিক বিএনপি আবারো জঙ্গির স্বরূপে ফিরে এসেছে। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদল ঢাকার রাজপথে স্লোগান দিচ্ছে, ৭৫ এর হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেক বার। স্লোগান তারা প্রথম বারই দেয় নি। অতীতে তাদের পূর্বসূরিরাও দিয়েছে। আর তারেক রহমান সহ বিএনপি নেতারা তো অনেকবারই বলেছে, শেখ হাসিনাকে ৭৫ সাল থেকেও ভয়াবহ পরিনতি বরণ করতে হবে।

এসব শ্লোগান, বক্তব্য কিসের ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত ছিলেন, সে বিষয়টি বিএনপি স্বীকার করে নিচ্ছে। ১৫ আগস্টই যদি বিএনপির চেতনা হয়,তাহলে তাদেরকে রাজনীতিতে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যথার্থই বলেছেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী দিলে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু শেখ হাসিনাকে তারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে,আর আমরা কি বসে বসে আঙ্গুল চুসব? রাজপথ কাউকে ইজারা দেওয়া হয় নি।

বিএনপির আন্দোলনের উদ্দেশ্য কি? বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি।তিনি কি রাজবন্দী যে, সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারে। বেগম জিয়া তো দন্ডপ্রাপ্ত আসামী,তাকে মুক্তি দিতে পারে তো আদালত। সেখানে না গিয়ে রাজপথে সংহিসতা করা তো কোন শুভ লক্ষণ নয়।

এটি ভুলে গেলে চলবে না যে, এদেশে বোমা-গ্রেনেড হামলা, হত্যা-ক্যু ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তাদের স্বাধীনতার পক্ষ শক্তির মিত্ররা। এ দেশে ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্টের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষ শক্তির ব্যক্তিদেরকে টার্গেট করে বার বার হত্যা চেষ্টা চালানো হয়েছে। এদেশে এখন পর্যন্ত যত নাশকতা, বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলা, জঙ্গি হামলা, রাজনৈতিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে তার সবকটির শিকার হয়েছে-আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তি কিংবা সংগঠন।

কিন্তু এখন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত কিংবা তাদের মিত্র মৌলবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি দল বা দলের উপর কখনো কোনো দিন কোনো রকম গ্রেনেড, বোমা হামলার কোন খবর কখনো শোনা যায় নি। এটি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, পাকিস্তানীদের প্রেতাত্মা বিএনপি-জামায়াত সুপরিকল্পিত ভাবে দেশের শান্তি বিনষ্ট করতে এসব নাশকতা করে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করেছেন, ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্ভোধনকে ঘিরে বাংলাদেশকে অশান্ত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশের রাজনীতি করতে চাচ্ছে বিএনপি।আওয়ামী লীগ নেতাদের আশংকা অমূলক নয়। অতীতে বিএনপি অনেক লাশের খেলা খেলেছে, মুত্যু হয়েছে অনেক নিরাপরাধ মানুষ।

বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে প্রকাশ্য একটি জনসভায় বলেছিলেন, ‘সরকার পতনের জন্য আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন করতে গেলে আরো কিছু প্রাণহানি হবে। জানমালের ক্ষতি হবে। কিন্তু দেশের স্বার্থে এই ক্ষতি মেনে নিতে হবে।’ আন্দোলনে প্রাণহানি ও জানমালের ক্ষতি কথা বলে তিনি কোন দেশের স্বার্থের কথা বলেছেন? সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা,আর লাশ ফেলে দিয়ে রাজনীতি করা তো এক বিষয় নয়।

বিএনপি যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন সেটা বিদেশি আদালতেও স্বীকৃত। বিএনপির একজন নেতার নাগরিকত্ব বিষয়ে কানাডার ফেড়ারেল আদালত বলেছিল, ‘বিএনপি প্রকৃতপক্ষে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে সশস্ত্র সংগ্রাম বা সহিংসতার আশ্রয় নেয়।হাতবোমা, পিস্তল ও অস্ত্র ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং জনগণের উপর হামলা চালায় বিএনপি। এমনকি অগ্নিসংযোগের মতও ঘটনা ঘটায় দলটি।’

বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের ইতিহাস এ দেশের জনগন ভুলে যায় নি। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রকৃয়া প্রতিহত ও নির্বাচনকে বানচাল করতে নারকীয় সন্ত্রাস চালায় বিএনপি-জামায়াত জোট। অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বেমার শিকার হয় নিরীহ গনপরিবহনের সাধারণ যাত্রী,পুলিশ-বিজিবি সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, স্কুল কলেজের ছাত্র-শিক্ষক। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হামলার লক্ষ্য বস্তুতে পরিনত হয়। আক্রান্ত অনেকেই এখনও সে যন্ত্রণা বয়ে চলছে। তাদের সেই নৃশংসতাকে ‘৭১ সালের পাকিস্তানি হায়েনাদের সঙ্গেই কেবলমাত্র তুলনা করা যায়।

বিএনপি নামক দলটির জন্মই হয়েছে ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে। তারা কখনোই গনমানুষের দাবি নিয়ে আন্দোলন তো দূরের কথা একটি প্রতিবাদও করে নি। বরং যত বারই ক্ষমতায় গিয়েছে গনদাবিতে প্রত্যাখান করে নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে এহেন অপকর্ম নেই যা তারা করে নি।

আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাস করে বিএনপি নিজেরাই আজ সংকটে পড়েছে। জনগণ থেকে দূরে সরে গেছে। জনগনের কোন ইস্যু নিয়ে তাদের আন্দোলন নেই, জনগনের কোন দাবি নিয়ে কোন কথা নেই। বিএনপির কাছে আন্দোলন মানে সরকারকে পতন ঘটাতে হবে, তাদেরকে ক্ষমতায় বসাতে হবে। এদেশের জনগন তো তাদের অতীত ইতিহাস ভুলে নাই। এজন্যই বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিলে জনগন তো দূরের কথা,তাদের কর্মীরাও মাঠে নামে না।

বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার একজন ১৭ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে সরকারের অনুগ্রহে বাসায় ও অন্যজন দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে পলাতক। দীর্ঘদিন ধরে তারা জনগন থেকে দূরে।দেশের সাধারণ মানুষের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। দেশের সাধারণ মানুষ এখন হরতাল, অবরোধ ও আন্দোলনের নামে জ্বালাও, পোড়াও, ভাংচুর মোটেও পছন্দ করে না। তারা শান্তি চায়,দেশের উন্নয়নে শরিক হতে যায়।

৭৫-এর হাতিয়ারদের বিরুদ্ধে বাঙালিদের গর্জে উঠতে হবে। এদের বাংলার মাটিতে স্বমূলে পরাজিত করতে হবে। বাংলাদেশ আর সেই অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না।ধর্মাদ্ধ, মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী পাকিস্তানী প্রেতাত্মাদের বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিটি মানুষকে একই পতাকা তলে নিয়ে আসতে হবে। এই লড়াই শুধু আওয়ামী লীগের একার নয় সেটা তাদেরকেও বুঝতে হবে। সারা দেশে গনজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। ৭১ এর হাতিয়ারদের গর্জে উঠতে হবে আরেকবার।

 

প্রকাশকাল: ০৫ জুন ২০২২, বাহান্ন নিউজ 

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও সদস্য,সম্প্রীতি বাংলাদেশ।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *