২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৪৯
২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৪৯

লক্ষ্য উদ্দেশ্য

শতবর্ষের পথে বঙ্গবন্ধু ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ মরহুম শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুনের ঘর আলো করে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ পূর্ণ হবে এই ক্ষণজন্মা মহামানবের ১০০ বছর । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ, এই বছরটিকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের কাছে মুজিববর্ষের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য বাঙালি প্রস্তুত হয়েছে জাতির পিতার জন্ম শতবর্ষ পালনে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ধর্ম বিশ্বাসে একজন প্রকৃত ধার্মিক। কিন্তু চেতনায় ছিলেন সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক। ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় সংবিধানে সন্নিবেশিত করে তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেছিলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা নয়। মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে, কেউ কারো ধর্মচর্চায় বাধা হবে না। ধর্মনিরপেক্ষতার এই ব্যাখ্যা বিশ্বে একেবারেই নতুন, অভিনব এবং অপূর্ব। তিনি বলেছিলেন, ধর্মের নামে কেউ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে পারবেনা। রাজনীতিতে যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে, তারা হীন, নীচ, তাদের অন্তর ছোট। যে মানুষকে ভালোবাসে সে কোন দিন সাম্প্রদায়িক হতে পারেনা। বঙ্গবন্ধুর মত অসাম্প্রদায়িক মহা-মানবের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনে সম্প্রীতি বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকতে পারে না। তাই জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত মুজিববর্ষকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বাংলাদেশে চিরস্থায়ী করতে সম্প্রতি বাংলাদেশে ২০১৯ সালের ২ জুলাই থেকে শুরু করেছে শতবর্ষের পথে বঙ্গবন্ধু ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ শিরোনামে সেমিনার ও আলোচনা সভা। ২০২০ সালের ১৭ মার্চের পর এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম হবে শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়েই মূলত আমাদের এই আয়োজন। ইতোমধ্যে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে উপরোক্ত শিরোনামে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’’এর কার্যক্রম
সংগঠনের গঠন প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পর্যায়ের সুপরিচিত সমমনা সহযাত্রীদের সাথে নিয়ে সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র আহবায়ক গাজীপুরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে হিন্দু অধ্যূষিত অঞ্চল গুলোতেই কার্যক্রম জোরালো করা হয়। প্রায় সমপর্যায়ের কার্যক্রম ইতপূর্বে ২০১৩ সালেও গ্রহণ করা হয়েছিল।

২০১৪ সালে চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র আহবায়ক আওয়ামী লীগ প্রর্থীর পক্ষে ১৩ দিন ব্যাপি প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রেও হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃষ্টান (যাদের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়) ধর্মাবলম্বীদের কাছেই সরাসরি ভোটের জন্য আবেদন করা হয়।

একই ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা, বরিশাল ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও। লক্ষ একটাই, তাহলো হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সম্প্রদায়ের ভোটাররা যেন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত না হন। কারন জাতীয় পর্যায়ে ধর্মভিত্তিক কিছু সংগঠন সেই সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য একাধিক বক্তব্য বিবৃতি প্রকাশ করেছিল। যে বক্তব্য বিবৃতি প্রকারান্তরে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক অবস্থানের বিপক্ষে।

সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পর ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন পূর্ব সময় পর্যন্ত সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন জেলা/উপজেলায় জনমত তৈরির কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করেছে। লক্ষ একটাই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক সমাজ ও দেশ গঠনের সফল নেতৃত্ব ইত্যাদি বিষয় গুলো তুলে ধরে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা। একই সাথে জাতীয় পর্যায় থেকে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য-বিবৃতির ব্যপারেও হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ভোটারদের সতর্ক থাকার আহবানও ছিল সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর কার্যক্রমে।

উল্লেখিত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সদ্য সমাপ্ত ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। প্রশ্ন উঠতে পারে যে,একটি সামাজিক সংগঠন হয়ে কেন সম্প্রীতি বাংলাদেশ নির্বাচন কেন্দ্রীক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় অথবা নিয়ে চলেছে। উত্তর খুব সহজ। বাংলাদেশকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, জাতির চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি ও দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে যোগ্য নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল থাকার ব্যাপাওে সচেতন করা। একই সাথে অপপ্রচারকারী, বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী এবং মিথ্যাচারকে বর্জন করার বিষয়ও ছিল নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রমে।

“সম্প্রীতি বাংলাদেশ” নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ এবং ভূমিকা পালনকে তাই রাজনৈতিক দুষ্টিতে দেখে না। দেখে যথার্থ ও সঠিক সামিিজক দায়িত্ব পালন হিসেবে। বিশেষ করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান এবং নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের মাঝে সম্প্রীতি বাংলাদেশ সেই আস্থাই দৃঢ় করতে চায় যে দেশে সংখ্যালঘু বলে কোন সংজ্ঞা নেই । দেশ ও সমাজকে আপন ভেবে সকল ধর্মের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মহৎ ও মানবিক এক বিশ্ব নির্মানই আমাদের সর্বোত্তম কর্তব্য। সকল ধর্ম একই কথা বলে।
উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচনে নেতা বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ নির্দেশে সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহবায়ক বৃহত্তর ফরিদপুর জেলায় জীবনে প্রথম নির্বাচন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়। সে সময় জেলা ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে বৃহত্তর ফরিদপুরে প্রায় প্রতিটি সংসদীয় আসনে স্বশরীরে সফর করে পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বার্তা পৌছানোই ছিল একমাত্র দায়িত্ব।

স্বাধীনতার পর ৮৬,৯১,৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষেও একই দায়িত্ব পালন অব্যাহত ছিল তার। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় ও বিএনপি-জামাত দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যখন দেশ জুড়ে সংখ্যালঘুদের উপর অকথ্য নির্যাতন হয়েছে তখনও সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র আহবায়ক হাত গুটিয়ে বসে থাকে নি। সতীর্থদের নিয়ে ছুটে গেছে সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, গৌরনদীতে। বিপন্নদের পাশে গিয়ে শুনিয়েছে বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক চেতনার বার্তা। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বির্ণিমানের নির্বাচনেও সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহবায়ক পথভ্রষ্ট হয়নি, আস্থা হারায়নি। সাথী হিসেবে পেয়েছে সমমনা বন্ধুদের এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণ বন্ধুকে।
দীর্ঘ পথযাত্রায় পাথেয় হয়ে উঠেছে মহান নেতার আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের দর্শন, আবহমান বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি এবং নেত্রী শেখ হাসিনার নিখুঁত নেতৃত্ব । তারই ফলশ্রূতিতে দ্রুত উন্নয়নশীল বাংলাদেশের পাশাপাশি একটি মানবিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সমমনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় গড়ে উঠেছে সম্প্রীতি বাংলাদেশ। এই কর্মজজ্ঞকে যদি দুর্মুখেরা রাজনৈতিক কার্যক্রম বলে প্রশ্ন তোলে তবে সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর উত্তর একটাই তা’হল যে কাজ দেশ, মানুষ, দেশের ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য মঙ্গলকর তা এই সামাজিক সংগঠনটি দ্বিধাহীনভাবে করে যাবে। মনে রাখা ভাল যে দেশের মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সমান্তরাল সামাজিক সংগঠনকেও সমানভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। সম্প্রীতি বাংলাদেশ সেই কাজটিই নিঃশংক চিত্তে করে যেতে চায়।

 

সম্প্রীতি সংলাপ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের পর বঙ্গবন্ধুর প্রিয় বাংলাদেশটাই যেন সাম্প্রদায়িক অপশক্তির অভয়ারণ্যে পরিনত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ভাবমূর্তি ধ্বংসের নিষ্টুর খেলায় মেতে ওঠে ধর্মান্ধ বর্বরের দল। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় উগ্রবাদী ধর্মান্ধদের নৃশংতায় দিনে দিনে এতটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে প্রকৃত ধর্ম বিশ্বাসীরা ক্রমশ ভীত হতে থাকেন।
দীর্ঘ ৬ বছর পরবাস জীবন কাটিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফিরে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করলে শুভবাদী জনগোষ্ঠী যেন কিছুটা হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন।

কিন্তু উগ্রবাদীদের আস্ফালন সেই আগের মতই চলতে থাকে। সেই সাথে যুক্ত হয় জঙ্গীবাদের ভয়াবহ নিষ্টুরতা। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যার অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বিনষ্ট করতে দেশ জুড়ে বছরের পর বছর ধরে ঘটে নানামূখী নৃশংস ঘটনা।
১৯৮৮ সালে চট্রগ্রামের লালদীঘি ময়দান, ২০০০ সালে কোটালীপাড়া, ১৯৮৯ সালে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারের বাসভবনে বোমা হামলা এবং ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড আক্রমণে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চলে। এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় মোট ১৯ বার।

বাংলা ভাই ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের নির্মমতা, দেশের প্রতিটি জেলায় একই সময়ে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ, বানিয়ার চরের গির্জায় এবং রামুর বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংস, চট্রগ্রামের গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী এবং পাবনায় পুরোহিত হত্যা ইত্যাদি ঘটনার মাধ্যমে দেশটা যেন জঙ্গী ও উগ্রবাদীদের বাধাহীন বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। পাশাপাশি যশোরে উদীচি সম্মেলন, রমনায় বাংলা নববর্ষের বটমূলে আঘাত করে জঙ্গীবাদ যে জঘন্য কাজ করে তা বাংলার ঐতিহ্যিক সংস্কৃতির প্রতি ছিল এক ভয়াবহ অশণি সংকেত। জঙ্গীবাদের হাত থেকে সিনেমা হলের দর্শক এবং সার্কাস দলের নিরিহ পশুও রেহাই পায়নি। পাশাপাশি চলে ধর্মভীরু মানুষদের মাঝে ধর্মের অপব্যখ্যা করে দেশ, মানুষ, ঐতিহ্য ইত্যাদি বিষয়ে সংঘবদ্ধ প্রচারণা।

সব মিলিয়ে একটা পর্যায়ে ধারনা হচ্ছিল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বঙ্গবন্ধুর ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী জঙ্গীদের চারণভ‚মি হয়ে উঠেছে। দূর্গম পাহাড়ে, জঙ্গলে, বিরান চরাঞ্চলে জঙ্গীদের অস্ত্রের ঝনঝনানির আওয়াজে ভীত হয়ে ওঠে দেশের আপাত শান্ত ও নিরিহ তৃনমূলের মানুষ।
সর্বশেষে ২০১৬ সালে রাজধানীর সম্ভ্রান্ত এলাকায় হলি আর্টিজান বেকারীতে ঘটে যাওয়া নৃশংসতা বিশ্বমাঝে বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে এবং আইন শৃঙ্খলা বহিনীর তৎপরতায় দেশ অনেকটাই শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে এসেছে। তবু গণমাধ্যমে প্রাপ্তÍ উগ্র জঙ্গীবাদ ও ধর্মান্ধ মৌলবাদের তথ্য শুভবাদী মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলে বৈ কি !
সম্প্রীতি বাংলাদেশ মনে করে যে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ তৎপরতা এবং সরকারের জিরো টলারেন্স এর পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করার কাজ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদের দৌরাত্বে সমানভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ দেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ।

তাই জনমনে আস্থা ও অসাম্প্রদায়িকতার সঠিক বার্তা পৌছে দিতে জেলা/ উপজেলায় সম্প্রীতি সংলাপ/ সম্প্রীতি সমাবেশের নিয়মিত আয়োজন করছে সম্প্রীতি বাংলাদেশ। এই সব সমাবেশে দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, ধর্মনিরপেক্ষতা, বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি ইত্যাদি বিষয়ে শুভ ব্যাখ্যা দিয়ে জনমত সৃষ্টি করেন ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ধর্মের শ্রদ্ধাভাজন নেতৃবৃন্দ। সাথে থাকেন সর্ব পেশার স্থানীয় শুনীজন।