বিভাজন দূরের প্রত্যয়ে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’

বিশিষ্ট্যজনের ভাবনা
শেয়ার করুন

বাঙালি অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি উৎসারিত

প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছেন, এই কৃত্রিম দেশভাগ টেকেনি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার এক বছরের ভেতর পূর্ব বাংলার বাঙালি রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে ওঠে এবং নিজেদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ছিলেন পণ্ডিত নেহরুর বন্ধু। তিনি ছিলেন ভারতের শেষ বড়লাট। তিনি নেহরুকে এক চিঠিতে জানান, ‘আপনি দেশভাগ হওয়ার জন্য দুঃখ করবেন না। পাকিস্তান ২৫ বছরও টেকে কি না আমার সন্দেহ আছে।’ পাকিস্তান সত্যিই ২৫ বছরও টেকেনি। বাঙালিরা তাদের জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। বাঙালির হাজার বছরের জাতীয়তাবোধ, যা তার অসাম্প্রদায়িক ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে উৎসারিত হয়েছিল তা ছিল বাস্তবতা, কোনো আবেগ নয়। আবেগ ছিল ধর্মীয় জাতীয়তার ভিত্তিতে পাকিস্তানে যোগদান। সেই আবেগ কেটে যেতেই বাঙালি তার জাতিসত্তা ফিরে পেয়েছে। তা নতুন কিছু নয়। হাজার বছর ধরে চর্যাপদ থেকে রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ থেকে শামসুর রাহমান পর্যন্ত প্রবাহিত সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক জাতীয়তা কোনো আবেগের বিষয় ছিল না। ছিল বাস্তব জাতীয়তাবোধ। সেই বোধ থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। পশ্চিম অংশ ভারতে রয়ে গেছে। কিন্তু তারাও দিল্লির আধিপত্য মেনে নেয়নি। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসি শাসন প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যে সুভাষ বসুর ভ্রাতা শরৎ বসু নির্বাচনে কংগ্রেসকে হারিয়ে দেন। একই সময় পূর্ব পাকিস্তানের টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক মুসলিম লীগের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। দুই বাংলাতেই একটা মিলনের সুর বাজছিল। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা তাতে ভীত হয়। তারা দুই বাংলার মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বলা চলে একটি বার্লিন ওয়াল তৈরি করে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.