বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের দীর্ঘশ্বাস

প্রবন্ধ পাতা
শেয়ার করুন

  • ড. মিল্টন বিশ্বাস

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১২ বছরের বেশি সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। কারাগারের বাইরে থাকার সময়ও কেটেছে হুলিয়া অথবা গোয়েন্দাদের কঠোর নজরদারির মধ্যে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন। এক নাগাড়ে ২৭ মাস পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন ১৯৪৯-১৯৫২ পর্যন্ত। একটানা তিন বছর কারাভোগ (১৯৬৬-১৯৬৯), কখনো ১৭-১৮ মাস বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে পুনরায় জেলগেটে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর লেখায় এই সময়গুলো অনুপুঙ্খ বর্ণনায় চিত্রিত হয়েছে। বিভিন্ন জেলের নানা ঘটনা আর বিচিত্র অভিজ্ঞতার বর্ণনা আছে। এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর এবং বিভিন্ন কারাগার থেকে গোপালগঞ্জ কোর্টে হাজিরা দিতে আসার বর্ণনায় আমাদের মহকুমা ও গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার করুণ চিত্রও পাওয়া যায়। তার কারাজীবনের কষ্টের একটি বাণী এরকম- ‘অনেক দিন কারাগারে বন্দি থাকার পরে মুক্তির আদেশ পেয়ে জেলগেট থেকে আবার ফিরে আসা যে কত কষ্টকর এবং কত বড় ব্যথা, তা ভুক্তভোগী ছাড়া বোঝা কষ্টকর।’ ১৯৫৪ সালে পুলিশকে ফোন করে বলেছিলেন- ‘আমার বাড়িতে পুলিশ এসেছিল, বোধহয় আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য। আমি এখন ঘরেই আছি, আপনি গাড়ি পাঠিয়ে দেন।’

বন্দি মুজিবের উপলব্ধি- ‘আজ দুইশত বছর পরে আমরা স্বাধীন হয়েছি। সামান্য হলেও কিছুটা আন্দোলনও করেছি স্বাধীনতার জন্য। ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস আজ আমাকে ও আমার সহকর্মীদের বছরের পর বছর জেল খাটতে হচ্ছে। আরও কতকাল খাটতে হয়, কেইবা জানে? একেই কী বলে স্বাধীনতা?’ জেলে বন্দি বঙ্গবন্ধুর কয়েকটি মন্তব্য- ক) ‘যে ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত, তাদের মতো হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই। আর যারা বাবা-মায়ের আশীর্বাদ পায় তাদের মতো ভাগ্যবান কয়জন।’ খ) ‘জেলের মধ্যে জেল, তাকেই বলে সেল।’ গ) ‘আমাকে একা রাখা হতো শাস্তি দেওয়ার জন্য। কারাগারের অন্ধকার কামরায় একাকী থাকা যে কী কষ্টকর, ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ অনুভব করতে পারবে না।’ ঘ) ‘রাজনৈতিক কারণে একজনকে বিনা বিচারে বন্দি রাখা আর তার আত্মীয়স্বজন, ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখা যে কত বড় জঘন্য কাজ তা কে বুঝবে? মানুষ স্বার্থের জন্য অন্ধ হয় যায়।’ এসব মন্তব্যে তিনি গভীর দুঃখ, নিভৃত জীবনের অনুভব প্রকাশ করেছেন সহজ-সরল ভাষায়।

২.

বন্দি থেকেও রাজনীতি করেছেন বঙ্গবন্ধু। মামলার হাজিরা কিংবা জামিনের জন্য কোর্টে যাওয়া-আসার পথে বন্দি বঙ্গবন্ধু সিপাহী-কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছেন। গোপালগঞ্জ থেকে ফরিদপুর জেলে আসার পথে কিংবা বেশি রাত হওয়ায় জেলের পরিবর্তে ফরিদপুর পুলিশ লাইনে আটক থাকার সময় যথাযথ আপ্যায়ন ও যত্ন পেয়েছেন সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে। ফলে রাজনৈতিক তৎপরতা এবং বাইরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ তার জন্য সহজ হয়েছিল। একবার এক মামলায় হাজিরা দিতে ঢাকা থেকে জাহাজে করে বরিশাল হয়ে গোপালগঞ্জ যাওয়ার পথে বরিশাল ঘাটে একজন রিকশাওয়ালাকে দিয়ে বঙ্গবন্ধু তার এক নিকটাত্মীয়ের কাছে খবর পৌঁছান। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসারত অবস্থায় একইভাবে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। বিনাবিচারে দীর্ঘ কারাভোগের প্রতিবাদে সহ-রাজবন্দি মহিউদ্দিন আহমেদসহ তার আমরণ অনশন পালনের কথার প্রচার হয়েছিল তার বুদ্ধিমত্তায়। ১৯৫২ সালের ১৫ ফেব্রম্নয়ারি তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফরিদপুর জেলে নিয়ে যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ ও ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দিন আহমেদ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আমরণ অনশনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন- ‘আমরা পৌঁছে খবর পেলাম জাহাজ ছেড়ে চলে গেছে… রাত একটায় আর একটা জাহাজ ছাড়বে… আমাদের পুলিশ ব্যারাকের একটা ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো। একজন চেনা লোককে থানায় দেখলাম, তাকে বললাম, শামসুজ্জোহাকে খবর দিতে … এক ঘণ্টার মধ্যে জোহা সাহেব, বজলুর রহমান ও আরও অনেকে থানায় এসে হাজির … আমি ওদের বললাম, ‘রাতে হোটেলে খেতে যাব। কোন হোটেলে যাব বলে যান। আপনারা পূর্বেই সেই হোটেলে বসে থাকবেন। আলাপ আছে। আমাদের কেন বদলি করেছে, ঢাকা জেল থেকে ফরিদপুর জেলে, এর মধ্যেই বলে দিলাম … হোটেলের নাম বলে বিদায় নিল। আমি বললাম, ‘রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টায় আমরা পৌঁছাব।’ … আমি সুবেদার সাহেবকে বললাম যে, ‘আমাদের খাওয়া-দাওয়া দরকার, চলুন, হোটেলে খাই। সেখান থেকে জাহাজঘাটে চলে যাব।’ সে রাজি হলো … আমরা যথাসময়ে হোটেলে পৌঁছালাম। দোতালায় একটা ঘরে বসার ব্যবস্থা ছিল … আমরা বসে পড়লাম। আট-দশজন কর্মী নিয়ে জোহা সাহেব বসে আছেন। আমরা আস্তে আস্তে খাওয়া-দাওয়া করলাম, আলাপ-আলোচনা করলাম। ভাসানী সাহেব, হক সাহেব (শামসুল হক) ও অন্যান্য নেতাদের খবর দিতে বললাম। খবরের কাগজে যদি দিতে পারে চেষ্টা করবে। বললাম, সাপ্তাহিক ইত্তেফাক তো আছেই। আমরা যে আগামীকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করব, সে কথাও তাদের বললাম …।’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ ১৯৯-২০০)।

একইভাবে ফরিদপুরে রাত ৪টায় পৌঁছে পরদিন সকালে দলের কর্মীকে কীভাবে সংবাদ জানিয়েছেন তার বিবরণও আছে- ‘… রাত ৪টায় ফরিদপুর পৌঁছলাম। রাতে আমাদের জেল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করল না। আমরা দুইজনে জেল সিপাহিদের ব্যারাকের বারান্দায় কাটালাম। সকাল বেলা সুবেদার সাহেবকে বললাম, ‘জেল অফিসাররা না এলে তো আমাদের জেলে নেবে না, চলেন কিছু নাশতা করে আসি।’ নাস্তা খাবার ইচ্ছা আমাদের নেই। তবে যদি কারও সঙ্গে দেখা হয়ে যায়, তাহলে ফরিদপুরের সহকর্মীরা জানতে পারবে, আমরা ফরিদপুর জেলে আছি এবং অনশন ধর্মঘট করছি। আধা ঘণ্টা দেরি করলাম, কাউকেও দেখি না চায়ের দোকানের মালিক এসেছে, তাকে আমি আমার নাম বললাম এবং খবর দিতে বললাম আমার সহকর্মীদের। আমরা জেলের দিকে রওনা করছি, এমন সময় আওয়ামী লীগের এক কর্মী, তার নামও মহিউদ্দিন সবাই মহি বলে ডাকে, তার সঙ্গে দেখা। … মহি সাইকেলে যাচ্ছিল, আমি তাকে দেখে ডাক দিলাম নাম ধরে, সে সাইকেল থেকে আমাকে দেখে এগিয়ে এলো। আইবি নিষেধ করছিল। আমি শুনলাম না, তাকে এক ধমক দিলাম এবং মহিকে বললাম, আমাদের ফরিদপুর জেলে এনেছে এবং আজ থেকে অনশন করছি সবাইকে এ খবর দিতে।’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ ২০০-২০১)।

৩.

আন্দোলন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছিল স্বতন্ত্র ভাবনা। যেমন লিখেছেন- ‘রাজনৈতিক কর্মীদের জেল খাটতে কষ্ট হয় না যদি বাইরে আন্দোলন থাকে।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হতে হলে ম্যানিফেস্টো/ঘোষণাপত্র অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রথম থেকে এই নীতি অনুসরণ করেছে। অন্যত্র তিনি লিখেছেন- ‘নেতা ও কর্মীদের গ্রেপ্তার করে ও শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রার ওপর গুলি করে প্রেস বন্ধ করে দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়ে কিছুদিনের জন্য আন্দোলন বন্ধ রাখা যায়, বেশি দিন না।’

তার মতে, ‘যে কোনো মহৎ কাজ করতে হলে ত্যাগ ও সাধনার প্রয়োজন। যারা ত্যাগ করতে প্রস্তুত নয় তারা জীবনে কোনো ভালো কাজ করতে পারে না।’ জেল ও নির্যাতনে নির্ভীক ছিলেন তিনি, বলেছেন- ‘নির্যাতনের ভয় পেলে বেশি নির্যাতন ভোগ করতে হয়।’ এজন্য আরো লিখেছেন- ‘আমি পালিয়ে থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। কারণ আমি গোপন রাজনীতি পছন্দ করি না আর বিশ্বাসও করি না।…ওদের ছেড়ে যেতে মন চায় না, তবুও তো যেতে হবে। দেশ সেবায় নেমেছি, দয়া মায়া করে লাভ কী? দেশকে ও দেশের মানুষকে ভালোবাসলে ত্যাগ তো করতেই হবে। সে ত্যাগ চরম ত্যাগও হতে পারে।’ অন্যত্র- ‘সাধারণত দোষী ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার বেশি হয় না। রাস্তার নিরীহ লোকই বেশি গ্রেপ্তার হয়।…মানুষকে ব্যবহার, ভালোবাসা ও প্রীতি দিয়েই জয় করা যায়। অত্যাচার, জুলুম ও ঘৃণা দিয়ে জয় করা যায় না।’ জেলের সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে অঙ্গীকার করেছিলেন ‘হয় তোমরা মুক্তি পাবা, নতুবা আবার আমি জেলে আসব।’ ৬ দফা আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন- ‘এখন আর আমার জেল খাটতে আপত্তি নেই, কারণ আন্দোলন চলবে।’ ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সময় তার লেখনিতে আছে- ‘এখন সমস্ত পাকিস্তান, বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তান তো একটা বড় ‘কারাগার’।’ ‘মানুষকে জেলে নিতে পারে কিন্তু নীতিকে জেলে নিতে পারে না।’

৪.

কারাগার সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর অভিব্যক্তি হলো- ‘এখানে বেশি দিন থাকলে ভেতরে কিছুই থাকে না, শুধু থাকে মানুষের রূপটা।’ কারণ ‘সূর্য অস্ত গেল, আমরাও খাঁচায় ঢুকলাম, ‘বাড়িওয়ালা’ বাইরে থেকে খাঁচার মুখটা বন্ধ করে দিল।’ বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে ঢাকা কারাগারে যে ঘরের মধ্যে থাকতেন তার দৈর্ঘ্য ছিল ৪০ ফুট, তার প্রস্থ ছিল চার ফুট। যে ঘরটিতে ঢাকা কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় থাকতেন সেটা ঘোড়া রাখার ঘর বলে তিনি অনুমান করেছিলেন। ওই সময় জেলে তার ঘরের দক্ষিণ দিকে ৬টি জানালা ছিল। জেলের ভেতরের ঘরের উত্তর দিকে ছিল পাগলদের সেল। ১৯৬৬ সালের জেলের ভেতর বঙ্গবন্ধুর ঘরের দক্ষিণের দেয়ালের ওপাশে ছিল গরুর ঘর। এই পরিস্থিতিতে তার দীর্ঘশ্বাস শ্রম্নত হয়েছে এভাবে- ‘লোহার শিকগুলো ও দেওয়ালগুলো বাধা দেয় সন্ধ্যার পূর্বে দিগন্ত বিস্তৃত খোলা আকাশ দেখতে। বাইরে যখন ছিলাম খোলা আকাশ দেখার সময় আমার ছিল না। ইচ্ছাও বেশি হয়নি। কারণ কাজের ভেতর নিজেকে ডুবাইয়া রাখতাম।’

‘কারাগারের রোজনামচা’য় তিন রকমের জেলের কথা বলা হয়েছে- কেন্দ্রীয় কারাগার, জেলা জেল আর সাব-জেল। সাব-জেলে দুই-তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত লোক ছাড়া রাখে না। প্রায় তিন বছরের ওপরে জেল হলে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধু ঢাকা জেলে থাকাকালীন ৯৩টা সেল ছিল। ১৯৫০ সালে ঢাকা জেলে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কয়েদি ও হাজতি থাকত। তিনি ১৯৬৬ সালে যে ঘরটাতে থাকতেন, সে ঘরটা ২০০ বছরের পুরনো বলে তিনি ধারণা করেছিলেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬ পুরনো ২০নং সেলে ছিলেন- রণদা সাহেব বার-অ্যাট-ল’. বাবু চিত্ত সূতার ভূতপূর্ব এমপিএ, আবদুল জলিল অ্যাডভোকেট, নূরে আলম সিদ্দিকী, কামারুজ্জামান ও শংকর বাবু। বঙ্গবন্ধু জেলের ভয়াবহতা প্রকাশ করছেন এভাবে-‘জেলখানায় মানুষ, মানুষ থাকে না- মেশিন হয়ে যায়।…চারদিকে দেওয়াল দিয়ে ঘেরা, ভেতরে সমস্ত কয়েদি এক সঙ্গে থাকে, তাহা নয়। জেলের ভেতর অনেক ছোট ছোট জেল আছে।…কারাগার, যার একটা আলাদা দুনিয়া। এখানে আইনের বইতে যত রকম শাস্তি আছে সব রকম শাস্তিপ্রাপ্ত লোকই পাওয়া যায়।’

‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ের শুরুতে পাঁচবার জেলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে উলেস্নখ করেছেন তিনি- ‘রাজবন্দি হিসেবে জেল খেটেছি, সশ্রম কারাদন্ড ভোগ করতে হয়েছে। আবার হাজতি হিসেবেও জেল খাটতে হয়েছে। তাই সব রকম কয়েদির অবস্থা নিজের জীবন দিয়ে বুঝতে পেরেছি।…আমার জীবনে কী ঘটেছে তা লিখতে চাই না, তবে জেলে কয়েদিরা কীভাবে তাদের দিন কাটায়, সেইটাই আলোচনা করব।’ সেই আলোচনা লিপিবদ্ধ আছে ‘কারাগারের রোজনামচা’য়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে দেওয়ানি ওয়ার্ডে থাকতেন। বন্দি জীবনে ১৭ মাস একাকী ছিলেন। এজন্য তার দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ থেকে দীর্ঘায়িত- ‘একাকী কামরায় রাতদিন থাকা যে কী ভয়াবহ অবস্থা তাহা ভুক্তভোগী ছাড়া বুঝতে পারবে না।’ (কারাগারের রোজনামচা) ২০২০ সালে করোনাকবলিত ‘মুজিববর্ষে’ বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘশ্বাসকে স্মরণে রেখেই আমাদের পথ চলতে হবে।

লেখক: অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.