প্রবন্ধ

শুভ জন্মদিন নাট্যজন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়

  • ড. অখিল পোদ্দার

মঞ্চজুড়ে হালকা আলো; সাদামাটা কক্ষে পায়চারি করছেন শেখ মুজিব। দীপ্তিময় প্রক্ষেপণ তাঁর অবয়ব ছাড়িয়েছে। তাতে অনাড়ম্বর পাঞ্জাবির গোটানো হাতা সবিশেষ সাদাসিধে; পায়ের চটিজোড়া স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। মুজিব হাঁটছেন মেঝের এ-প্রান্ত থেকে সে-প্রান্তে। অতঃপর দাঁড়ালেন মাঝ বরাবর। চুরুটের ধোঁয়ায় হালকা আচ্ছন্ন। সব নৈর্ব্যক্তিকতা ছাপিয়ে হাজারো দর্শকের জোড়াচোখ আরেকবার দেখল এদেশের মানচিত্র কিংবা তাঁর বিশাল বুক। অকস্মাৎ ঘরে ঢুকলেন তাজউদ্দীন। মুজিব আড়মোড়া ভেঙে বলে উঠলেন- ‘তাজউদ্দীন, এতো ফরমালিটি করো ক্যান? তুমি হলে গিয়ে বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী। আমার ঘরে যহন কেউ থাকবে না, হানিপকে জিজ্ঞাসা করবা- ভিতোরে ঢুকে পড়বা। আর এটা তো গণভবন না, এটা তো বত্রিশ নম্বর …
আরো পড়ুন

একজন দেশযোদ্ধার পথচলা

  • বিপ্লব কুমার পাল

অভিনয়ের আড়ালে তার বহু কীর্তি ঢাকা পড়েছে। অনেক মানুষই জানেন না মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্বগাঁথা ইতিহাস, জাতির জনক হত্যার প্রতিবাদ, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী গণআন্দোলন উজ্জীবিত করার সোপান। বেশিরভাগ মানুষ জানেন অভিনেতা হিসেবে। অথচ তার জীবনে কর্মের হিসাব কষলে ৩০ শতাংশের বেশি হবে না। বাকি ৭০ শতাংশ—একাত্তরের রণাঙ্গনে অস্ত্র হাতে পাকিস্তানের সেনাদের বিরুদ্ধে গৌরবগাঁথা লড়াই; স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থেকে বিজয় ছিনিয়ে আনা। এর বাইরে সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও সমান অবদান রেখেছেন তিনি। হাজার বছরের বাঙালির ঐতিহ্য চর্চায় দেশজুড়ে গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। যে অসম্পদায়িক চেতনার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বীর বাঙালি লড়েছিলেন, সেই চেতনার জন্য এখনো পথে প্রান্তরে ছুটে চলেছেন …
আরো পড়ুন

পারস্পরিক আস্থা ও অবিচল বন্ধুত্বের বার্তা

  • তাপস হালদার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে রাজস্থানের একটি সাংস্কৃতিক দল নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানায়। এ সময় তিনি হাত নেড়ে তাদের উৎসাহ দেন। বৈশ্বিক করোনা মহামারির পর চার দিনের ভারত সফর করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে এই সফর। বাংলাদেশ কিংবা ভারত উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সফরে টানটান উত্তেজনা থাকে। রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছেও আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়। স্বাভাবিকভাবে দেখলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরে দুই দেশের গভীর বন্ধুত্ব ও আস্থার সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে …
আরো পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর, বন্ধুত্ব ও বানিজ্যিক সম্পর্কে নজর

  • তাপস হালদার

বাংলাদেশের সাথে ভারতের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের তিনদিক ঘিরে আছে ভারতের সীমান্তরেখা। কূটনীতিতে একটা কথা আছে, চাইলেই বন্ধুত্ব বদল করা যায় কিন্তু প্রতিবেশী বদল করা যায় না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সরকার ও জনগনের অবদান দুই দেশের সম্পর্ককে রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর ৫ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লি গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত সরকারও এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। একজন সরকারপ্রধান একটি রাষ্ট্র সফর করবেন, এটি কুটনীতির একটি সাধারণ বিষয়। এখানে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কম থাকে। কিন্তু সফরটা …
আরো পড়ুন

বিএনপির অনাস্থা শুধুমাত্র বিরোধিতার কারণেই বিরোধিতা

  • তাপস হালদার

ভোট হলো নাগরিকের মৌলিক অধিকার। যুগ যুগ ধরে এই উপমহাদেশে মৌলিক অধিকার হরণের ভুরিভুরি উদাহরণ আছে।ভোটাধিকার রক্ষার অনেক আন্দোলনের ইতিহাস আছে। নির্বাচনে পরাজিত দল সব সময়ই ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। এটা একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এই ভোটাধিকার পদ্ধতিকে আরো বেশি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করতে একটি যন্ত্রের আবিষ্কার হয়েছে। যার নাম হলো ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন।
এর অন্য নাম ই-ভোটিং।যা ভোটারের পরিচয় গোপন রেখে ভোট দেয়ার যন্ত্র।এই যন্ত্রে কোন কাগজ-কলমের ঝামেলা ছাড়া ভোট প্রদান করা যায়। ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় এটি একাধারে সঠিকভাবে ভোট প্রয়োগ ও দ্রুততার সাথে ভোট গণনা করতে সক্ষম। ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক …
আরো পড়ুন

২১ আগস্ট: খুনীদের একমাত্র টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা

তাপস হালদার: ২১ আগস্ট, ২০০৪ সাল। ঘড়ির কাঁটায় ৫ টা ২২ মিনিট। প্রকাশ্য দিবালোকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে নারকীয় গনহত্যা চালানো হয়। খুনীদের একমাত্র টার্গেট ছিলেন সমাবেশের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ সভাপতি, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা। নেত্রী যখন ৫টা ২২ মিনিটে বক্তব্য শেষ করে ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে মাইক থেকে সরে যাচ্ছিলেন ঠিক সেই মুহূর্তে সমাবেশের দক্ষিণ দিক থেকে মঞ্চকে লক্ষ্য করে একটি গ্রেনেড ছুটে আসে। গ্রেনেডটি ট্রাকের উপর স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চের বাঁ পাশে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চে অবস্থিত শেখ হাসিনা সহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে পড়েন। এ সময় …
আরো পড়ুন

পিতৃহত্যার দায় ও অভিশাপ

  • মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)

আজকে লেখার শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস, স্বাধীন দেশের যাত্রা শুরুর কথা এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন মৌলিক আদর্শ ও দর্শন জানতে আগ্রহী হলে সর্বত্র যে নামটি একজন পাঠক পাবেন তাঁর নাম শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু, জাতির পিতা, বাংলাদেশের স্থপতি এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের সংগ্রাম, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ—সব কিছুতে তিনিই ছিলেন মূল পরিকল্পনাকারী, নেতা, পরিচালক, অনুঘটক ও অনুপ্রেরণার স্থল। জীবিত মুজিবের চেয়ে শারীরিকভাবে মৃত মুজিব অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে এখনো বাংলাদেশকে রক্ষা করে চলেছেন।বঙ্গবন্ধু একই সঙ্গে স্বাধীনতার প্রবর্তক ও …
আরো পড়ুন

১৫ই আগস্টের ভাবনা

  • গোলাম কবির

বাংলার মানুষের সমাজজীবনে সর্বাপেক্ষা বিষাদ ও ‘বিপর্যয়ের’ দিন ১৫ আগস্ট ১৯৭৫। মানুষের জগৎ-দর্শন কেবল হানাহানি এবং স্বার্থপরতার জন্য নয়, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়ে মাটির পৃথিবীকে সুবর্ণ সাজে সজ্জিত করা। এই ১৫ই আগস্ট সেই পথের প্রধান অন্তরায়। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন, সব বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে, ধর্মীয় ‘বিদ্বেষ বিষ নাশ’ করে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাইকে এক সুশীতল ছায়ায় অবস্থানের ব্যবস্থা করতে। এই দিনে তাঁকে প্রায় সপরিবারে নৃশংস উপায়ে হত্যা করে গোটা জাতির আনন্দময় বাঁচার অধিকার রুদ্ধ করা হয়। তাই ১৫ই আগস্ট বাংলার মানুষের মানবধর্ম রক্ষার সর্বাপেক্ষা বিপর্যয়ের দিন। জাতীয় বিপদের দিন। তাই বলে এই দিনে আমাদের কেবল শোক প্রকাশ করলেই …
আরো পড়ুন

ইতিহাসের অনন্য পুরুষ

  • এম নজরুল ইসলাম

শ্রাবণের শেষরাত ছিল সেটা। সে রাতে কি বৃষ্টি হয়েছিল? সে রাতে কি কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল আকাশের চাঁদ? জোছনাকে কি গ্রাস করেছিল রাহুর অশুভ ছায়া? কেমন ছিল সে রাতের প্রকৃতি? আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে যেমন সূর্য ওঠে, তেমনি কি সেদিনের সূর্য একটি সম্ভাবনার কথা বলেছিল? নাকি এক স্বপ্নভঙ্গের বিস্ময়-বেদনা নিয়ে শুরু হয়েছিল আমাদের দিন? আমরা কেউ কি ভাবতে পেরেছিলাম, ১৫ই আগস্ট সকালের সূর্য কোনো শুভ দিনের সূচনা নয়, একটি বেদনাবিধুর কালো ইতিহাসের জন্ম দিতে যাচ্ছে? বাঙালির জাতীয় জীবনে অনেক কালো অধ্যায় আছে। কিন্তু ১৫ই আগস্ট রাতে রচিত হলো যে কৃষ্ণ অধ্যায়, বাংলার ইতিহাসে তার চেয়ে বেদনার …
আরো পড়ুন

বিদেশি গণমাধ্যমে মুজিব হত্যার সংবাদ

  • মোস্তফা হোসেইন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের খবর তাত্ক্ষণিক গণমাধ্যমে প্রকাশের প্রতিবন্ধকতা ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার পর দেশীয় গণমাধ্যমের প্রকাশ ও প্রচারণা চলে যায় খুনিদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। ফলে ১৫ তারিখে বঙ্গবন্ধুর খুন হওয়ার সংবাদ তেমন একটা প্রকাশ হয়েছে এমনটা চোখে পড়েনি। কিন্তু ১৬ আগস্ট থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিদেশি গণমাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড বিষয়ে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন, মন্তব্য কলাম প্রকাশ হতে থাকে। বোধকরি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারকাজে সবচেয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে ১৫ আগস্ট-পরবর্তী বিদেশি গণমাধ্যম।
১৭ আগস্ট ভারতীয় পত্রিকাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহ সংবাদ প্রকাশ করে। ইউরোপ-আমেরিকার পত্রিকাগুলোর মধ্যে গার্ডিয়ান ২৮ আগস্ট যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে, মনে হয় এটি অধিকতর …
আরো পড়ুন

জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু

  • এ কে এম আতিকুর রহমান

আমরা জানি জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় যখন বিশ্বে দুটি প্রধান শক্তি ব্লক তৈরি হয়—একটি সোভিয়েতপন্থী সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর ব্লক এবং অন্যটি আমেরিকাপন্থী পুঁজিবাদী দেশগুলোর ব্লক। আন্দোলনটি সেই শীতল যুদ্ধের সময় পশ্চিম ও পূর্ব ব্লকের মধ্যে উন্নয়নশীল বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি মধ্যম পথের রচনা করে। বলতে গেলে ‘জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন’ সৃষ্টিকে ত্বরান্বিত করার পেছনে কাজ করেছিল ১৯৪৯ সালে গঠিত ন্যাটো এবং ১৯৫৫ সালে গঠিত ওয়ারশ প্যাক্ট। স্বাধীনতা ও শান্তিকামী মানুষ ওই দুই বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়নি। ওই আন্দোলনের পুরোধা হয়ে এগিয়ে এসেছিলেন যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসিপ ব্রজ টিটো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহরু, মিসরের প্রেসিডেন্ট জামাল …
আরো পড়ুন

বিতর্ক ও ফলপ্রসূ কূটনীতি

  • ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪, লাহোর ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর যাওয়া ও বাংলাদেশের ওআইসি সদস্য পদপ্রাপ্তির মতো মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনার চারটি মাত্রা আছে। এক. লাহোর যাওয়া বঙ্গবন্ধুকে দেশে বিতর্কের মুখে ফেলেছিল; এমনকি তাঁর স্ত্রী প্রিয় রেণুর সঙ্গেও মতান্তর হয়েছিল। দুই. বাংলাদেশের ওআইসির মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হওয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতে সংযোজন হয়েছিল অনেক কিছু। তিন. মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বৈরী মুসলিম বিশ্বকে বঙ্গবন্ধু বন্ধুতে পরিণত করেন। চার. বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক প্রজ্ঞা সুদূরপ্রসারী সুফল বয়ে এনেছিল। কারণ বাংলাদেশের স্বীকৃতি ও পেট্রোডলার সাহায্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়, যা অতি প্রয়োজনীয় ছিল।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মুসলিম বিশ্বের যে ভূমিকা ছিল তা যেমন একাধারে …
আরো পড়ুন

ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড

  • শেখ হাসিনা

আল্লাহু আকবর… … হা ইয়া আলাছ ছালা হা ইয়া আলাল ফালা … নামাজের দিকে এসো কল্যাণের দিকে এসো মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে, প্রতিটি মুসলমানকে আহ্বান জানাচ্ছে— সে আহ্বান উপেক্ষা করে ঘাতকের দল এগিয়ে এলো ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড ঘটাবার জন্য। গর্জে উঠল ওদের হাতের অস্ত্র। ঘাতকের দল হত্যা করল স্বাধীনতার প্রাণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এই নরপিশাচরা হত্যা করল আমার মাতা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবকে।হত্যা করল মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রনেতা শেখ কামালকে, শেখ জামালকে, তাদের নব পরিণীতা বধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামালকে। যাদের হাতের মেহেদীর রং বুকের তাজা রক্তে মিশে একাকার হয়ে গেল।
খুনিরা …
আরো পড়ুন

বঙ্গমাতার জন্মদিনের ভাবনা

মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু অসুস্থ ছিলেন। তিনি যখন ৩২ থেকে বের হন তখন জ্বরে তার গা পুড়ে যাচ্ছিল। নানামুখী চাপও ছিল বঙ্গবন্ধুর ওপর। কি বলবেন, কতদূর বলবেন, এসব নিয়ে ছিল নানামুখী পরামর্শ। তার ওপর ছিল সাত কোটি মানুষের অসম্ভব প্রত্যাশার চাপটাও। ঘর থেকে বের হওয়ার আগ মুহূর্তে বঙ্গমাতার সাথে পরামর্শ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। পরামর্শ চেয়েছিলেন ভাষণে তিনি কী বলবেন সে বিষয়ে। বঙ্গমাতা তাকে বলেছিলেন তিনি যা বিশ্বাস করেন তাই যেন তিনি লাখো মানুষের জনস্রোতে বলেন। বঙ্গমাতা আজ সাত আসমানের ওপারে যে স্বর্গীয় আবাসেই থাকুন না কেন সেখান থেকেই তার প্রার্থনা পাথেয় হোক তার প্রিয় জ্যেষ্ঠ কন্যার, তার …
আরো পড়ুন

আর কত মাটির কান্না?

  • বিপ্লব কুমার পাল

চোখের জলের কোনো রঙ হয় না। হোক তা যেকোনো প্রাণীর। গর্তে পড়ে থাকা হাতির শাবক তুলতে মা হাতির চোখের জল নেট দুনিয়ায় বহু মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। উদ্ধার কর্মীদের সহযোগিতায় মায়ের কাছে ফিরে আসে সেই বাচ্চা হাতি। তা নিয়ে কত অভিব্যক্তি আর মতামতে ভরে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। জেগে ওঠে মানবতা। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের গুজবে কত মানুষের ঘর ভাঙে। পুড়ে যায় মন্দির। নারী-পুরুষের চোখের জল পড়ে, কান্নায় বুক ভাসায় শিশুরা। এসব ছবি দেখে সবার কি মন ভিজে উঠে? কিছু মানুষের কষ্ট লাগে, তবে সবার নয়। পশুর জন্য কান্না করে কত মানুষ, অথচ বাপ-দাদার …
আরো পড়ুন

শেখ হাসিনার কারাবরণ: গনতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিন

  • তাপস হালদার

১৬ জুলাই, বাংলাদেশের গনতন্ত্রের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক দিন। ২০০৭ সালের এই দিনে গনতন্ত্র হত্যা করার জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় বহুল চর্চিত একটি শব্দ ছিল ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা। অর্থ্যাৎ দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা। মাইনাস টু-র আড়ালে ছিল মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা। রাজনীতি থেকে শেখ হাসিনাকে মাইনাস করা। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার প্রচেষ্টা নতুন নয়। তিনি যেদিন থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসেছেন সেদিন থেকেই এ প্রচেষ্টা শুরু হয়। কখনো গ্রেপ্তার কিংবা গৃহবন্দি, আবার কখনো হত্যা করার চেষ্টা। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদ …
আরো পড়ুন

পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার অমর কীর্তি

  • তাপস হালদার

বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।আর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থাপনা হলো পদ্মা সেতু। এই সেতু বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে যেভাবে দেশি-বিদেশি শত্রুদের মোকাবেলা করতে হয়েছিল, ঠিক তেমনিই পদ্মা সেতু তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলা করতে হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই অশুভ শক্তির পরাজয় হয়েছে। সত্য, সুন্দর ও ন্যায় শক্তির বিজয় হয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতে নেন, …
আরো পড়ুন

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে মাইলস্টোন হবে পদ্মা সেতু

  • তাপস হালদার

পদ্মা সেতু উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ২৫ জুন। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মনে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে ভারতের গণমাধ্যমগুলোতেও পদ্মা সেতু নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখতে পাচ্ছি, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে তো পদ্মা সেতু নিয়ে প্রবল আগ্রহ ও খুশির ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশে পদ্মা সেতু চালু হলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের খুশি হওয়ার কারণ কি? বিষয়টি প্রথম মাথায় না আসলেও গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন দেখে কারণটা বুঝতে পেরেছি। আসলেই তো পদ্মা সেতু দু’দেশের মানুষের কাছেই আবেগ, উচ্ছাস ও আনন্দেরই হওয়ার কথা। শুধুমাত্র দুই দেশেরই নয়, পদ্মা সেতু এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আনবে গতি, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হবে বৈপ্লবিক …
আরো পড়ুন

স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক আওয়ামী লীগ

  • তাপস হালদার

দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পরই বাঙালি জাতির ওপর বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু হয়। প্রথমেই মাতৃভাষার ওপর আঘাত আসে। পাকিস্তানী শাসকদের শোষণ, বঞ্চনার প্রতিবাদে অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন গঠন করে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, আতাউর রহমান খান, শওকত হোসেন ও আলী আহমেদ খান সহ-সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক, কারাবন্দি তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা ও পূর্ব …
আরো পড়ুন

মাথা নত না করা বাংলাদেশের রূপকার

  • ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল

‘শাবাশ বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয় জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়’- বাংলাদেশকে নিয়ে কবি সুকান্তের এই অমর পঙ্ক্তিমালা লেখার সময়কাল এমন একটা সময়, যখন পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের কোন অস্তিত্ব ছিল না। জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখারের পটভূমিতে বাংলাদেশকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের ২৫ মার্চ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে জেনারেল ইয়াহিয়া খান ঢাকায় তার সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন, তার প্রয়োজন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ নয়, মাটি। তার পরের মাত্র নয়টি মাসে ত্রিশ লাখ বাঙালীকে নির্বিচারে হত্যা করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ইয়াহিয়ার সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রয়াস …
আরো পড়ুন