প্রবন্ধ

আমার গানের স্বরলিপি লেখা রবে

  • বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক

গত ৩০ এপ্রিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার সমাপ্তি ঘটল গাফফার ভাইকে দেখতে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পেয়ে। লন্ডন পুলিশ সব সময়ই আমাকে একা না বেরোনোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন, কেননা সেখানে খুনি তারেক জিয়ার মাস্তান বাহিনীর যারা টার্গেটে আমি তাদের অন্যতম। অতীতে তারেকের মাস্তানরা আমাকে দুই দফা আক্রমণ করেছিল। তাই আমার ছাত্র সলিসিটার মেহেদি হাসানকে নিয়ে বেরুলুম বহু দূরে অবস্থিত বার্নেট হাসপাতালের পথে। পৌঁছে দেখি গাফফার ভাই জাগ্রত, কিন্তু চোখ বুজে যেন কী ভাবছেন। চোখ খোলার পর শুভ সন্ধ্যা জানিয়ে বললেন, চোখ বন্ধ করে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া গানটি মনে মনে গাইতে ছিলাম- যে গানটির প্রথম লাইনগুলো …
আরো পড়ুন

‘পাগলের সুখ মনে মনে, দিনের বেলা তারা গোনে’

  • তাপস হালদার

বহুল প্রচারিত একটি প্রবাদ আছে, ‘পাগলের সুখ মনে মনে, দিনের বেলা তারা গোনে।’ সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতাদের উল্লাস দেখে প্রবাদটি বার বার মনে পড়ছে। অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা সরকারের পতন দেখে বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা আনন্দে নৃত্য শুরু করে দিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম তো বরাবরের মত হুঙ্কার দিয়ে বলেই দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের অবস্থা শ্রীলঙ্কার চেয়ে খারাপ হবে। সেখানে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে সব। আর এরা (আওয়ামী লীগ) ঝাঁপিয়ে পড়বে বঙ্গোপসাগরে। বর্তমান সরকারের এক যুগেরও বেশি সময়ের শাসনামলে মির্জা সাহেবদের আশা বারবার হতাশায় পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির পার্টি অফিস গুলোতে …
আরো পড়ুন

শুভ জন্মদিন কবিগুরু: রবীন্দ্রনাথ আছেন বাঙালির অস্তিত্ব জুড়ে

  • তাপস হালদার

রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের উজ্জল নক্ষত্র। বাংলা ও বাঙালিকে তিনি বিশ্ব দরবারে মর্যদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশ,ভারত ও শ্রীলংকা এই তিনটি দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা একমাত্র তিনিই। এমন বিরল সম্মান আর কারো নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গীত-সংকলন গীতবিতান -এ স্বদেশ পর্যায়ের প্রথম গানটি হলো- ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। এই গানের প্রথম দশ পংক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ‘প্রথম ভাগ’ (প্রজাতন্ত্র) -এর ৪ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম দশ চরণ। ‘আমার সোনার বাংলা’ একদিনে বাংলাদেশের সংগীত হয়ে যায় নি। আছে দীর্ঘ ইতিহাস।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছোট …
আরো পড়ুন

হেফাজত জামায়াত বিএনপি সেদিন এক হয়ে যায়

  • মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)

গতকাল ছিল ৫ মে। ২০১৩ সালের এই দিনে ঢাকার শাপলা চত্বরে যা ঘটেছিল সেটি এখন হেফাজতি তাণ্ডব হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। পবিত্র ঈদের পর পর ধর্মের নামে চরম অধর্মের একটি বিষয়ের ওপর লিখতে হবে তা ভাবিনি। কিন্তু তারিখটি স্মরণে আসায় মনে হয়েছে ধর্মের নামে এত বড় অধর্ম-অপকর্মের ফলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে যে বিষফোড়ার সৃষ্টি হয়েছে, যথাশিগগির তার ব্যবচ্ছেদ করতে না পারলে সামনে আরো বড় বিপদ আসন্ন। বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এবং একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক চাহিদা আর হেফাজতের ১৩ দফার সহাবস্থান অসম্ভব ও অবাস্তব। জোড়াতালি দিয়ে বেশি দিন চলা যাবে না।
ধর্মীয় …
আরো পড়ুন

বিএনপির ‘জাতীয় সরকার’, মুলা দেখানো শুভঙ্করের ফাঁকি

  • তাপস হালদার

সাম্প্রতিক কালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টে জাতীয় সরকার বিষয়টি নিয়ে খুব শোরগোল দেখা যাচ্ছে। তাদের কেউ বলছে আগামী নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার চাই, আবার বিএনপি বলছে ভিন্ন কথা- তারা জয়ী হলে নির্বাচনের পরে জাতীয় সরকার গঠন করবে। এ বিষয়ে লেখার শুরুতে একটি গল্প মনে পড়ছে। যদিও গল্পটি সবারই জানা। গাধার সামনে মূলা ঝোলানো। মরুভূমিতে হাঁটতে হাঁটতে গাধা ক্লান্ত হয়ে যায়, আর হাঁটতে চায় না। তখন মালিক গাধাকে লোভ দেখানোর জন্য একটা লম্বা বাঁশের মাথায় মুলা ঝুলিয়ে রাখে এবং বাঁশের অপর প্রান্ত গাধার শরীরের সঙ্গে এমনভাবে বেঁধে দেয় যেনো মুলাটা গাধার চোখের সামনেই ঝুলতে থাকে। তখন ওই মুলা …
আরো পড়ুন

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা উপেক্ষা করার মতো নয়

  • মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)

বিশাল নিরাপত্তাবেষ্টনী ও ব্যাপক পুলিশি তৎপরতার মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখের উৎসব দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। কোথাও কোনো অঘটন ঘটেনি। পহেলা বৈশাখের আগের দিন ঢাকার পুলিশ কর্তৃপক্ষ মিডিয়ার কাছে বলেছে, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে জঙ্গি আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জঙ্গি উপস্থিতির তথ্য আছে। ভারত-বাংলাদেশে নতুন করে জঙ্গি আক্রমণ হতে পারে—এই তথ্যের নতুন তাৎপর্য আছে। কিন্তু গত ছয় মাসে পাকিস্তানে ছোট-বড় প্রায় ৫০টি জঙ্গি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে এবং অনবরত ঘটে চলেছে। তাই পাকিস্তানে জঙ্গি আক্রমণের নতুন আশঙ্কার তথ্য নতুন কোনো অর্থ বহন করে না। পাকিস্তান নিজেদের তৈরি ‘ফ্রাংকেনস্টাইনের দানব’ দ্বারা নিজেরাই …
আরো পড়ুন

অবরুদ্ধ হয়েছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র

  • তাপস হালদার

১৬ জুলাই গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার কারান্তরীণ দিবস। সেদিন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকেই অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। ইয়াজউদ্দিন-ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দ্বারা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার ছিল জনগণের কণ্ঠ রোধ ও অধিকার হরণ করার প্রক্রিয়া। কিন্তু এ প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চিরতরে ধ্বংস করার জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে আগাতে থাকে বিএনপি-জামায়াত চক্র। অথচ শেখ হাসিনাই স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের স্তম্ভ। তিনি যত দিন থাকবেন তত দিন পাকিস্তানি ভাবধারায় রাষ্ট্র গঠন করা যাবে না। সেই পরিকল্পনা থেকেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় শেখ হাসিনাকে হত্যার …
আরো পড়ুন

কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ

  • ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল

আজকের এই দিনে ২০০৭-এ সেদিনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের প্রধানতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতা বড় আপাকে (শেখ হাসিনা) গ্রেফতার করে জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে পাঠানোর দুঃসাহস দেখিয়েছিল। আপাকে গ্রেফতারে সেদিনের পুলিশ বাহিনী শিষ্টাচারের কোন তোয়াক্কাই রাখেনি। সেদিনের সেসব ছবি আজও পত্র-পত্রিকা আর টিভির পর্দায় আমাদের পীড়া দেয়। আর যেসব তথাকথিত অপরাধের অজুহাতে আপার সর্বশেষ জেলযাত্রা, সময়ের পরিক্রমায় মিথ্যে প্রমাণিত তার সব কয়টি। তবে সেসবের অবতারণা আজকের লেখার প্রেক্ষাপট নয়। একজন শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বে বাংলাদেশের গৌরব গাথা আজ কখনও পদ্মায় তো, কখনও অন্তরিক্ষে। আমরা যেমন ধান ফলাতে জানি, পারি তেমনি নিজ দেশে …
আরো পড়ুন

অবরুদ্ধ হয় গণতন্ত্র, সেদিন কেঁদেছিল বাংলাদেশ

  • মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ

স্বাধীনতার মহান স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, গণতন্ত্রের কাণ্ডারি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির সুধাসদনের বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। এ গ্রেফতার ছিল সম্পূর্ণ প্রহসনের এবং এক নীলনকশা প্রণয়নের জন্য জাতিকে বিভ্রান্ত করার এক মহাষড়যন্ত্র। জনগণের কণ্ঠস্বর রোধ করে দেয়ার এবং জনগণের অধিকারহরণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকেই অবরুদ্ধ করে। গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার প্রতি এ অন্যায়, এ মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীসহ দেশের মানুষ গর্জে ওঠে। আবেগে কেঁদে ফেলে গণতন্ত্রকামী …
আরো পড়ুন

মঙ্গল শোভাযাত্রা: শান্তির পক্ষে,অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই

  • তাপস হালদার

১.
বাংলা নববর্ষের প্রধান অনুসঙ্গ হয়ে উঠেছে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রা পেয়েছে সার্বজনীনতা। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইউনেস্কো কমিটি এ প্রসঙ্গে বলেছে, ‘এই মঙ্গল শোভাযাত্রা বাংলাদেশের মানুষের সাহস আর অশুভের বিরুদ্ধে গর্বিত লড়াই। ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক’। মঙ্গল শোভাযাত্রা ১৯৮৯ সালে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে প্রথম শুরু হয়।তারপর পর থেকে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণে পরিনত হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ(সাবেক চারুকলা ইনস্টিটিউট) বরাবরের মতই মঙ্গল …
আরো পড়ুন

ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক কেন প্রয়োজনীয়

  • জয়ন্ত ঘোষাল

বিদেশি রাষ্ট্রনায়করা সাধারণত ভারতে আসেন শীতকালে। সাইবেরিয়া থেকে ডিসেম্বর মাসে যেমন শীতের পাখিরা আসে; আবার উড়ে চলে যায় গরমকালে। অনেকটা সে রকম শীতকালটা শাহি দিল্লি কূটনীতির উষ্ণতায়। কিন্তু এবার এপ্রিল মাসে গরম পড়তে না পড়তেই দিল্লিতে রাষ্ট্রনায়কদের আসার ধুম পড়ে গেছে। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলেন। তারপর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলে এলেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সবে ঘুরে গেলেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর আসার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর কভিড হয়ে যাওয়ায় আসতে পারছেন না। পরে আসবেন বলেছেন। এমনকি যাঁকে নিয়ে এত অশান্তি ভারতের, সেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত পাকিস্তান-ভারত সফর করে কাঠমাণ্ডু চলে গেলেন। কেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর? এটা নিয়ে সাউথ ব্লকের করিডরে …
আরো পড়ুন

ইমরান খানের আত্মসমর্পণ ও পাকিস্তানের রাজনীতি

  • মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)

ইমরান খান তাঁর আত্মীয় জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজির পথেই হাঁটলেন। একাত্তরে নিয়াজি ঢাকায় ঘোষণা দেন, লাস্টম্যান, লাস্ট বুলেট পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ করবেন এবং ঢাকার পতন হতে পারে শুধু তাঁর মৃতদেহের ওপর দিয়ে। কিন্তু কোথায় রইল লাস্টম্যান, লাস্ট বুলেটের ঘোষণা। ৯৩ হাজার জীবিত সেনা নিয়ে ঢাকায় লাখো মানুষের সম্মুখে নিয়াজি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করলেন। ইমরান খান রাজনৈতিক যুদ্ধে বিরোধীদের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করে একই রকম শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে, প্রয়োজনে শহীদ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিলেন। এটিই যদি করবেন, তাহলে সেটি আরো মাসখানেক …
আরো পড়ুন

দিশাহারা বিএনপি ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সার্কাস

  • আবদুল মান্নান

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০০৭ সাল থেকে ক্ষমতার বাইরে। ২০০৭ আর ২০০৮-এ অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ছিল একটি অসাংবিধানিক সেনা সমর্থিত বেসামরিক গোষ্ঠী, যারা এসেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে। সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ হওয়ার কথা ৯০ দিন এবং এই সময়ের মধ্যে তাদের একমাত্র কাজ একটি সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিজ থেকেই বাতিল হয়ে যাওয়া। তবে ২০০৭ সালে গঠিত সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা ছাড়া আর সব কিছুই করেছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদের কারাবন্দি করা, কোনো কিছুই বাদ যায়নি। শেষতক একটি গণবিক্ষোভের মুখে …
আরো পড়ুন

টিপ ও ইভটিজিং বিতর্ক: এই অপরাধীরা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ধারণ করে না

  • তাপস হালদার

মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। নারী-পুরুষ, সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে এসেছে এই মহান স্বাধীনতা। বাংলাদেশের সংবিধানেও নারী-পুরুষের কোনও বিভেদ করা হয়নি। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ সাংবিধানিকভাবেই নারী-পুরুষে বৈষম্য করার কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু এখনও বাংলাদেশে এক শ্রেণীর ‘মৌলবাদী’ আছে যারা নারীকে মানুষ হিসেবে গণ্য না করে তাদের কৃতদাস মনে করে। নারীর উপর ফতোয়া জারি করে যে, তারা কী করতে পারবে, কী পারবে না। তারা চায় না নারীরা স্বাধীনতা পাক, সম্মান পাক, সমাজে নারীরা মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকুক। …
আরো পড়ুন

শেখ কামাল নয়, টার্গেট বঙ্গবন্ধু (দ্বিতীয় অংশ)

  • পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন প্রতিদিনই দেখেছি শেখ কামালকে। দেখেছি নয়, দেখা হয়েছে। কলাভবনের করিডরে, সোসিওলজি ডিপার্টমেন্টের জটলায়, মধুর ক্যান্টিনের চত্বরে, টিএসসি ক্যাফেটারিয়ায়, শরীফ মিয়ার চায়ের দোকানে, বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে, টিএসসির দোতলায় নাটকের রিহার্সেলে। কোন না কোন জায়গায় দিনে এক বা একাধিকবার দেখা হতোই। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে থাকা অনবদ্য এক যুবক। সাদামাটা মধ্যবিত্ত চেহারা। অথচ কী প্রাণবন্ত! বিশেষণ বিহীন আকর্ষণীয় ঔজ্জ্বল্য-বসন ভূষণে, চাল-চলনে, আলাপচারিতায়, তুমুল আড্ডায়। সতত সারল্যমাখা সহজিয়া চরিত্রের অমন মানুষ আমি অন্তত আমার জীবনে দেখি নাই। ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যরে লহ সহজে’- কবিগুরুর অমোঘ দর্শনের যথার্থ অনুসারী ছিলেন শেখ কামাল। জাতির পিতার পুত্র হওয়া …
আরো পড়ুন

অপূর্ব প্রাণশক্তিতে ভরপুর এক দুরন্ত তারুণ্য

  • মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল তার সংক্ষিপ্ত জীবনে অপূর্ব প্রাণশক্তিতে ভরপুর থেকে এক দুরন্ত তারুণ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ সব অঙ্গনে। একজন তরুণের জীবন কত কর্মময়, কত প্রাণবন্ত এবং কত উজ্জ্বল হতে পারে, নিজের সংক্ষিপ্ত জীবনে তা তিনি দেখিয়ে গেছেন। ছোটবেলা থেকেই তার ছিল খেলাধুলায় প্রচণ্ড আগ্রহ। শুধু খেলাধুলা নয়, লেখাপড়া, সংগীতচর্চা, অভিনয়, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা থেকে শুরু করে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির সব শাখাতেই তার ছিল মুনশিয়ানা ও অসামান্য সংগঠকের ভূমিকা। মেধাবী ছাত্র, প্রথম ডিভিশনের ফুটবল প্লেয়ার, ক্রীড়া সংগঠক, আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠক শেখ কামাল ছিলেন …
আরো পড়ুন

শেখ কামাল নয় টার্গেট বঙ্গবন্ধু

  • পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন প্রতিদিনই দেখেছি শেখ কামালকে। দেখেছি নয়, দেখা হয়েছে। কলাভবনের করিডরে, সোসিওলজি ডিপার্টমেন্টের জটলায়, মধুর ক্যান্টিনের চত্বরে, টিএসসি ক্যাফেটারিয়ায়, শরীফ মিয়ার চায়ের দোকানে, বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে, টিএসসির দোতলায় নাটকের রিহার্সেলে। কোন না কোন জায়গায় দিনে এক বা একাধিকবার দেখা হতোই। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে থাকা অনবদ্য এক যুবক। সাদামাটা মধ্যবিত্ত চেহারা। অথচ কী প্রাণবন্ত! বিশেষণ বিহীন আকর্ষণীয় ঔজ্জ্বল্য-বসন ভূষণে, চাল-চলনে, আলাপচারিতায়, তুমুল আড্ডায়। সতত সারল্যমাখা সহজিয়া চরিত্রের অমন মানুষ অন্তত আমার জীবনে দেখিনি। ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যরে লহ সহজে’- কবিগুরুর অমোঘ দর্শনের যথার্থ অনুসারী ছিলেন শেখ কামাল। জাতির পিতার পুত্র হওয়া সত্ত্বেও মিথ্যা …
আরো পড়ুন

চিরঞ্জীব শেখ কামাল

  • মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ

একজন তরুণের জীবন কত কর্মময়, কত প্রাণবন্ত এবং কত উজ্জ্বল হতে পারে, নিজের সংক্ষিপ্ত জীবনে তা দেখিয়ে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ কামাল। ছোটবেলা থেকেই তার ছিল খেলাধুলায় প্রচণ্ড আগ্রহ। শুধু খেলাধুলা নয়, লেখাপড়া, সঙ্গীতচর্চা, অভিনয়, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা থেকে শুরু করে শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির সব শাখাতেই তার ছিল মুনশিয়ানা ও অসামান্য সংগঠকের ভূমিকা। মেধাবী ছাত্র, ১ম ডিভিশনের ফুটবল প্লেয়ার, ক্রীড়া সংগঠক, আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠক শেখ কামাল ছিলেন সদালাপী, সদা হাসিখুশি, প্রাণবন্ত মানুষ। তিনি গড়ে তুলেছেন ঢাকা থিয়েটার এবং আধুনিক সঙ্গীত সংগঠন স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী। ছাত্রলীগের একজন …
আরো পড়ুন

রেণু থেকে বঙ্গমাতা: নিভৃত এক অসাধারণ যাত্রা

  • ডা. নুজহাত চৌধুরী

তাঁর জীবনের শুরুটা খুব সুখকর ছিল না। তিন বছর বয়সে বাবা আর পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে যান জীবনের শুরুতেই। আর নিয়তি এটাই ঠিক করে রেখেছিল যে জীবনের শুরুর মতো শেষটাও তাঁর সুখকর হবে না। এক নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞে একসঙ্গে হারিয়ে যাবেন পুরো পরিবার নিয়ে। মাঝের যে অনতিদীর্ঘ জীবন—সেটাও ছিল কষ্টের, সংগ্রামের। দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের উথালপাথাল ঢেউয়ে জীবনতরীর বেশির ভাগ সময়ই তাঁর কেটেছে অনিশ্চয়তায়। এ সব কিছুর মধ্যেই নীরবে নিজ গুণে তিনি ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখে রেখেছেন স্বর্ণাক্ষরে। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী হিসেবে শুধু নয়, জাতির জীবনে তাঁর নিজের অবদানের জন্য ইতিহাসের অংশ …
আরো পড়ুন

বঙ্গমাতা ছিলেন মুক্তি সংগ্রামের নেপথ্যের কারিগর

  • তাপস হালদার

“কোন কালে একা হয়নি ক’ জয়ী পুরুষের তরবারী, প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে, বিজয়-লক্ষ্মী নারী” আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই কথাটির যথার্থ সার্থক হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনে চলার পথে। টুঙ্গীপাড়ার খোকা থেকে শেখ মুজিব, শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু, আর বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হয়ে ওঠার পিছনে যে মহীয়সী নারীর অবদান অনস্বীকার্য, তিনি হচ্ছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। ৮ আগস্ট মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন। ১৯৩০ সালের এই দিনে মধুমতি নদীর তীরবর্তী শ্যামল ছায়া ঘেরা গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে অন্যতম এক নেপথ্যের অনুপ্রেরণাদাত্রী। বাঙালি …
আরো পড়ুন