সম্প্রীতি অটুট রাখতে আমরা ঐক্যবদ্ধ

সম্প্রীতি সংবাদ-২
শেয়ার করুন

সম্প্রীতি অটুট রাখতে আমরা ঐক্যবদ্ধ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশ। এ দেশে সব ধর্মের নাগরিকদের অন্যের ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। এ জন্য নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সম্প্রীতি বজায় রাখতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি শান্তি সম্মিলন, শান্তি মিছিল ও শান্তিসভা করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কোনো ধরনের সংঘাত দেখা না দেয়। কারণ, এই মাটিতে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার ডাকে ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষ কাঁধে অস্ত্র তুলে নিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে। কাজেই এ স্বাধীনতাকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। দুর্গা পূজার সময় কুমিল্লার যে ঘটনাটি ঘটেছে তা খুব দুঃখজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, মানবধর্মকে সম্মান করাই ইসলামের শিক্ষা। নিজের ধর্ম পালনের অধিকার যেমন সবার রয়েছে, তেমনি অন্যের ধর্মকেও কেউ হেয় করতে পারে না। এটা ইসলাম শিক্ষা দেয় না। আর নিজের ধর্মকে সম্মান করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হয়, অন্য ধর্মকে হেয় করলে নিজের ধর্মকেই অসম্মান করা হয়ে যায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা বিশ্লেষণ করলে আমরা সেটাই দেখব। আমাদের পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননা করেছে অন্যের ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে। এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক। যার যার নিজের ধর্মের সম্মান নিজেকেই রক্ষা করতে হবে। আর একটি কথা, আইন কেউ হাতে তুলে নেবেন না। কেউ অপরাধ করলে সে যে–ই হোক, অপরাধীদের বিচার হবে। আমাদের সরকার সে বিচার করবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না। কাজেই সবাইকে সে কথা মেনে চলতে হবে এবং জানতে হবে, তাহলেই সঠিক শিক্ষা পাওয়া যাবে। প্রতিটি ধর্মই শান্তির বাণীর কথা বলে, সবাই শান্তি চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা একটা অসাম্প্রদায়িক সমাজে বসবাস করি, যেখানে সকলের ধর্মের সাথে আমাদের সম্প্রীতি থাকবে এবং এই সম্প্রীতি নিয়েই আমাদের চলতে হবে। কেননা যুগ যুগ ধরেই এ দেশে সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে কোনো ধর্ম দেখে নয়, যাঁরা রক্ত দিয়েছেন, তাঁদের রক্তের সঙ্গে সব ধর্ম একাকার হয়ে মিশে গেছে। আর এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশে সব ধর্মের, বর্ণের ও সব শ্রেণি–পেশার মানুষই একটা মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে চলবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই মাঝেমধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পরপরই পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় যেসব ঘটনা ঘটেছে, ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে তাঁবু টাঙিয়ে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুকনো খাবার থেকে শুরু করে রান্না করা খাবার বিতরণ, কাপড়চোপড় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে ঘরবাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠ বলেন, ‘বাংলাদেশ আজকে স্বাধীন দেশ। কাজেই ভবিষ্যতে আর কেউ বাংলাদেশের ক্ষতি করতে পারবে না। আমরা কখনো আর কারও অধীন হব না। স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলব। সেই কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে।’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন আর তারাই এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে। তারা দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দেবে, মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করবে। আর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে আমরা মাথা উঁচু করে চলব, যেটা জাতির পিতা চেয়েছিলেন।

 

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২১


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.