গঠনতন্ত্র

সম্প্রীতি বাংলাদেশ গঠনতন্ত্র

আবহমানকাল ধরেই এ গাঙ্গেয় অববাহিকা সব মতের, সব ধর্মের জনগোষ্ঠীকে সমানভাবে বুকে ঠাঁই দিয়েছে, লালন করেছে পরম মমতায়। মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে বাদশাহী পৃষ্ঠপোষকতায় বৈষ্ণব কবিরা পদাবলী কীর্তন রচনা করেছেন। বৌদ্ধ ধর্মানুসারী পাল রাজারা শাক্ত এবং বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধা দেননি।
বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অংকুর তার আবহাওয়ায়, তার লোকায়ত ঐতিহ্যে। নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে বেড়ে ওঠা এই বঙ্গভ‚মির সনমশানেরা শান্তিপ্রিয়। আমাদের শত বৎসরের ইতিহাস জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাস, একের বিপদে অন্যকে উজাড় করে দেওয়ার নিরন্তর কাহিনী।

আমাদের জাতীয় জীবনে যখনই ঘনিয়ে এসেছে অমানিশার কালো ছায়া, বিপন্ন করতে চেয়েছে, আমরা জেগে ঊঠেছি। আমরা প্রতিহত করেছি, সৃষ্টি করেছি নতুন ইতিহাস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪তে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, প্রতিবারে বুকের রক্তে লিখেছি এক অনাগত ভূমির জন্য নতুন কবিতা। পশ্চিম পাকিস্তানি হায়েনারা চেষ্টা করেছে আমাদের বিভক্ত করার ১৯৬৪ আর ১৯৬৫ সালে। শতাব্দীর সেরা বাঙালির নেতৃত্বে ১৯৬৯ সালে এসেছিল নতুন জোয়ার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিনিসুতোর এক বন্ধনে আমরা আবদ্ধ। মহান স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবির নেতৃত্বে বুকের রক্তে বাঙালিরা রচনা করেছে নতুন ইতিহাস, এনেছে এক নতুন মানচিত্র।
এক মহাঅমানিশার রাতে আমরা হারিয়েছি আমাদের পিতাকে, হারিয়ে গিয়েছিল আমাদের পথের দিশা। হিংস্র শকুনের দল বদলে দিতে চেয়েছিল ইতিহাসের গতিপথ। যখনই সুযোগ পেয়েছে হিংস্র বিষধর নাগিনীরা ছোবল মারতে চেয়েছে। আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি এক যুগসন্ধিক্ষণে। কালো অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্র এখনো বন্ধ হয়নি। মরণ কামড় দেওয়ার জন্য তৈরি হিংস্র শকুনের দল। আমাদের শত বছরের ঐতিহ্য হুমকির মুখে। সময় এসেছে আবারো ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬৯ আর একাত্তরের মত একতাবদ্ধ হয়ে হিংস্র শকুনের দলকে রুখে দেওয়ার।

এরই প্রেক্ষাপটে, দেশের সকল নাগরিককে তাঁদের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলার উদ্দেশ্যে এবং হিংস্র অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িনোর প্রত্যয় নিয়ে ২৮ এপ্রিল ২০১৮ তারিখ প্রতিষ্ঠা হয় ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’।

ধারা -১: নাম
এ সংগঠনের নাম হবে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’

ধারা-২: কার্যালয়
সংগঠনের প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত থাকবে।
ধারা -৩: আওতা
বাংলাদেশসহ সম্ভাব্য সকল দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত থাকবে।
ধারা-৪: সংগঠনের প্রকৃতি
এই সংগঠন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও মানবকল্যাণমুখী। সব ধর্মকে শ্রদ্ধা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ‘স¤প্রীতি বাংলাদেশ’ সচেষ্ট থাকবে। সকল ধর্মের মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোন রাজনৈতিক, ব্যক্তি স্বার্থে বা উদ্দেশ্যে এই সংগঠনটি ব্যবহার করা হবে না।
ধারা-৫: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ক) মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে অবিচল থাকা।
খ) বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও ৭২ সংবিধান সর্বাগ্রে।
গ) সকল ধর্ম ও গত্রের মানুষের অভিন্ন স্বার্থ সংরক্ষণ ।
ঘ) সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার প্রসার ঘটানো।
ঙ) বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে মৈত্রি স্থাপন।
চ) ধাপে ধাপে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এর কার্যক্রম বিস্তৃত করা।
ছ) বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের নিয়ে এর কার্যক্রম বিস্তৃত করা।
জ) সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার জন্য সদস্যদের নিয়ে বৈঠক, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
ঝ) সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা।
ধারা-৬: সদস্য পদ
সদস্য পদ হবে দুই ধরণের।
ক) সাধারণ সদস্য।
সকল বাংলাদেশি নাগরিক এই সংগঠনের সাধারণ সদস্য হতে পারবেন।
খ) নির্বাহী সদস্য।
দেশে অবস্থান করা বাংলাদেশিরা নির্বাহী সদস্য হতে পারবেন।
ধারা-৭: সদস্য পদে ভর্তি
সদস্য পদের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। যে কোন আবেদনকারীর সদস্য পদে অর্ন্তভূক্তির ব্যপারে নির্বাহী পরিষদের রায়ই চুড়ান্ত বলে গন্য হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে সদস্য ভর্তির ক্ষেত্রে তাদের নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
ধারা-৮: সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি
সংগঠনের নির্ধারিত নিয়মাবলী পালনে ব্যর্থ হলে অথবা এর পেশাগত স্বার্থ বিরোধী/মার্যাদা হানিকর কোন কাজে লিপ্ত হলে নির্বাহী পরিষদ উক্ত সদস্যের সদস্যপদ বাতিল বলে ঘোষণা করতে পারবেন। অবশ্য সদস্য পদ বাতিলের পূর্বে উক্ত সদস্যকে দু’সপ্তাহের মধ্যে কার্যকারণ দর্শানো নোটিশ দিতে এবং তার বক্তব্য (যদি থাকে) তা প্রদানের সুযোগ দিতে হবে।
ধারা-১০: বার্ষিক চাঁদা
সদস্য ও নির্বাহী সদস্যের বার্ষিক চাঁদার হার হবে যথাক্রমে ১,০০০/= (এক হাজার) টাকা। নির্বাহী পরিষদের সুপারিশক্রমে অনুমোদন সাপেক্ষে চাঁদার হার বিভিন্ন সময়ে সংশোধন করা যাবে। প্রয়োজনে সদস্যদের ওপর অতিরিক্ত চাঁদা আরোপের ক্ষমতা নির্বাহী পরিষদের থাকবে। বিভাগীয় ও জেলা কমিটির সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা হবে ৫০০/= (পাঁচ শত) টাকা।
ধারা-১১: পাওনা পরিশোধ
সদস্য ফি ও বার্ষিক চাঁদা সদস্য হওয়ার সময়েই পরিশোধ করতে হবে এবং পরবর্তী কালে তা প্রত্যেক ইংরেজি বছরের প্রথম মাসের মধ্যে পরিশোধযোগ্য হবে। প্রত্যেক ইংরেজি বছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে চাঁদা প্রদানে ব্যর্থ সদস্যদের ব্যাপারে নির্বাহী পরিষদের সভায় আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পর পর দু’বছর চাঁদা বাকী থাকলে সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে। পুনরায় সদস্যপদ পেতে হলে ভর্তি ফিসহ বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।
নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তে যদি কোন অতিরিক্ত চাঁদা ধার্য্য করা হয় তবে তা নির্দিষ্টি তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
ধারা-১২: সাংগঠনিক কাঠামো
সাংগঠনিক কাঠামো নিম্নরূপ হবে:

ক) সাধারণ পরিষদ।
সকল সদস্য স্থানীয় সদস্য এবং এই পরিষদের সদস্য হবেন।

খ) নির্বাহী পরিষদ।
১) বাংলাদেশিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠিত হবে।
২) বিভাগীয় ও জেলার আলাদা কমিটি হবে।
নির্বাহী পরিষদে উপদেষ্টামন্ডলির সদস্য হবেন ১০ জন। তাঁরাও নির্বাহী কমিটির বৈঠকে অংশ নেবেন।

ধারা-১৩: নির্বাহী পরিষদ
১) কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের গঠন হবে নিম্নরূপ:
সভাপতি : ১ জন
সহ-সভাপতি : ৫ জন
সাধারণ সম্পাদক : ১ জন
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : ৩ জন
সাংগঠনিক সম্পাদক : ১ জন
কোষাধ্যক্ষ : ১ জন
দপ্তর সম্পাদক : ১ জন
আইন বিষয়ক সম্পাদক : ১ জন
তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক : ১ জন
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক : ১ জন
সাংস্কৃতিক সম্পাদক : ১ জন
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক : ১ জন
নৃগোষ্ঠী বিষয়ক সম্পাদক : ১ জন
নারী বিষয়ক সম্পাদক : ১ জন
শিশু বিষয়ক সম্পাদক : ১ জন
সদস্য : ১০ জন

২) বিভাগীয় ও জেলা কমিটি গঠন হবে নিম্নরূপ:
সভাপতি : ১ জন
সহ-সভাপতি : ১ জন
সাধারণ সম্পাদক : ১ জন
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : ১ জন
সাংগঠনিক সম্পাদক : ১ জন
কোষাধ্যক্ষ : ১ জন
দপ্তর সম্পাদক : ১ জন
আইন বিষয়ক সম্পাদক : ১ জন
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক : ১ জন
সাংস্কৃতিক সম্পাদক : ১ জন
নৃগোষ্ঠী বিষয়ক সম্পাদক : ১ জন
নারী বিষয়ক সম্পাদক : ১ জন
শিশু বিষয়ক সম্পাদক : ১ জন
সদস্য : ৮ জন

ধারা-১৪: নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য
ক) সভাপতি।
তিনি সংগঠনের প্রধান কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংগঠনের সব সভায় তিনি সভাপতিত্ব করবেন এবং প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেবেন। কোন সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পক্ষে বিপক্ষে সমান সংখ্যক ভোট পড়লে তিনি চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
খ) সহ-সভাপতি।
সভাপতির অনুপস্থিতিতে নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহ-সভাপতিদের মধ্যে একজন সভাপতির যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যান্য সময়ে তারা বিভিন্ন কাজে সভাপতিকে সহায়তা করবেন।
গ) সাধারণ সম্পাদক।
তিনি এই সংগঠনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়মিত কাজকর্ম তিনি তদারক করবেন। তিনি সভাপতির সাথে আলোচনাক্রমে সকল সভা আহবান করবেন। নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের মধ্যে তিনি কাজ বণ্টন ও তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবেন।
ঘ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
তিনি সাধারন সম্পাদককে বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবেন। সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে একজন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন।
ঙ) কোষাধ্যক্ষ।
সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও তহবিল সংরক্ষণের দায়িত্ব তার থাকবে।
চ) দপ্তর সম্পাদক।
সংগঠনের দপ্তরের যাবতীয় কাজ তাঁর দায়িত্বে থাকবে।
ছ) আইন বিষয়ক সম্পাদক।
সংগঠনের মঙ্গলের জন্য তিনি আইনি পরামর্শ এবং আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করবেন।
জ) তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক।
‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ এর জন্য সব রকম তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং এবিষয়ে গবেষণাপত্র তৈরি করবেন।
ঝ) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক।
সংগঠনের যাবতীয় প্রচার ও প্রকাশনা কাজ তিনি তদারকি করবেন।
ঞ) সাংস্কৃতিক সম্পাদক।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বাঙালি সংস্কৃতি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি পদক্ষেপ নেবেন।
ট) আন্তর্জতিক বিষয়ক সম্পাদক।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে সমমনা সংগঠনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করবেন।
ঠ) নৃগোষ্ঠী বিষয়ক সম্পাদক।
নৃগোষ্ঠীর সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন এবং ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ এর আলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।
ড) নারী বিষয়ক সম্পাদক।
পিছিয়ে পড়া নারীদের ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ এর আলো ছড়িয়ে দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।
ঢ) শিশু বিষয়ক সম্পাদক।
শিশুদের মাঝে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।
ন) সদস্য।
সদস্যবৃন্দ সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাহী পরিষদের শূন্য পদ পূরণ:
সাধারন সভায় নির্বাচনের পর নির্বাহী পরিষদের কোন পদ কোন কারণে শূন্য হলে কেন্দ্রীয় পরিষদের ক্ষেত্রে সভাপতি এবং স্থানীয় পরিষদের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান যথাক্রমে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্য কোন সদস্যকে পরিষদের মেয়াদকালের অবশিষ্ট সময়ের জন্য শূন্য পদে মনোনীত করতে পারবেন।

ধারা-১৫: নির্বাচন
কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন, সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অথবা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয়, জেলা কমিটির নির্বাচন, নির্বাচনের বছরে নভেম্বর মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে সেই বছরের বার্ষিক সাধারণ সভার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
কেন্দ্রীয় পরিষদের নির্বাচন, নির্বাচনের বছরের ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে সেই বছরের বার্ষিক সাধারণ সভার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না এমন একজনকে নির্বাচন কমিশনার এবং প্রয়োজনে অন্য দু’জনকে সহকারী নির্বাচন কমিশনার মনোনিত করতে পারবেন।
ধারা-১৬: আয়ের উৎস
সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা, অতিরিক্ত চাঁদা (যদি আরোপিত হয়), সহ সংগঠনের স্বার্থ বিরোধী নয় এমন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুদান, সংগঠনের আয়ের উৎস হবে।
প্রয়োজনে বিশেষ অনুষ্ঠান বা কার্য্যক্রম গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে প্রবেশ মূল্য বা প্রকাশনায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা যাবে।
ধারা-১৭: অর্থ পরিচালনা
কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে সমিতির নামে একটি হিসাব খুলে তহবিল সংরক্ষণ করা হবে। সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ যুগ্মভাবে এই হিসাব পরিচালনা করবেন।
ধারা-১৮: হিসাব নিরীক্ষা
বার্ষিক সাধারণ সভার পূর্ববর্তী নির্বাহী পরিষদ সভায়, কোষাধ্যক্ষ সমিতির সংশ্লিষ্ট বছরের আয়-ব্যায়ের হিসাব পরীক্ষার জন্য পেশ করবেন। নির্বাহী পরিষদের সভায় অনুমোদনের পর তা রিপোর্ট আকারে সাধারণ সভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। প্রয়োজনে অবশ্য সাধারণ সভা সমিতির হিসাব নিরীক্ষার জন্য অডিটর নিয়োগ করতে পারবে।
ধারা-১৮: হিসাব নিরীক্ষা
বার্ষিক সাধারণ সভার পূর্ববর্তী নির্বাহী পরিষদ সভায়, কোষাধ্যক্ষ সমিতির সংশ্লিষ্ট বছরের আয়-ব্যায়ের হিসাব পরীক্ষার জন্য পেশ করবেন। নির্বাহী পরিষদের সভায় অনুমোদনের পর তা রিপোর্ট আকারে সাধারণ সভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। প্রয়োজনে অবশ্য সাধারণ সভা সমিতির হিসাব নিরীক্ষার জন্য অডিটর নিয়োগ করতে পারবে।
ধারা-১৯: সভা সমূহ
প্রতি বছর ৩১শে ডিসেম্বরের আগে সুবিধামত যে কোন দিনে বার্ষিক সাধারণ সভা এবং নির্বাচনের বছর বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক কমিটির ক্ষেত্রে তা ৩০শে নভেম্বরের আগে অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলোচনা করে ২১ (একুশ) দিনের নোটিশে বার্ষিক সাধারণ সভা আহবান করবেন।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক, সভাপতির সাথে আলোচনা করে ১৪ (চৌদ্দ) দিনের নোটিশে সাধারণ সভা এবং ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার নোটিশে জরুরি সাধারণ সভা আহবান করতে পারবেন এবং ৭ (সাত) দিনের নোটিশে নির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করা যাবে। নির্বাহী পরিষদ প্রতি বছরে কমপক্ষে চারটি বৈঠকে মিলিত হবেন।
নির্বাহী পরিষদের সভায় ৫ জনের এবং সাধারন সভায় এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কাজ শুরু করা যাবে। জরুরি সাধারণ সভার ক্ষেত্রে ১৫ জন সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কাজ শুরু করা যাবে। অবশ্য মুলতবী সাধারণ সভার ক্ষেত্রে কোন ফোরামের প্রয়োজন হবে না।
অর্ধেকের বেশি সংখ্যক সদস্যের লিখিত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ (চৌদ্দ) দিনের নোটিশে সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সভা আহবান করবেন।
ধারা-২০: গঠনতন্ত্র সংশোধন
সাধারণ সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশ সদসের সম্মতিতে এ গঠনতন্ত্রের যে কোন ধারা সংশোধন পরিবর্তন বা সংযোজন করা যাবে। গঠনতন্ত্র সংশোধন সংক্রান্ত কোন সভার নোটিশ কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে পাঠাতে হবে এবং নোটিশের সঙ্গে প্রস্তাবিত সংশোধন সংযোজন করে দিতে হবে।