এক মঞ্চে ধর্মীয় নেতারা, সম্প্রীতির ডাক

সংবাদ পাতা
শেয়ার করুন

সব ধর্মের মানুষের দেশ গড়তে যে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, এক মঞ্চে উঠে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা সেই লক্ষ্যে মাঠে নামতে সবাইকে ডাক দিলেন। ৭ জুলাই জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সম্প্রীতি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যাত্রা অনুষ্ঠানে তারা এ ডাক দেন।
অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা শুদ্ধানন্দ মহাথেরো বলেন, “আমরা বাঙালি। বাঙালিরা যদি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান মিলে একসাথে কাজ করতে পারি তাহলে সম্প্রীতি বজায় থাকবে। কারণ আমরাতো এক ভাষায় কথা বলি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে পারলে বাঙালিত্বও ফিরে আসবে।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মো. আফজাল বলেন, “মদিনা সনদ সব ধর্মের সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত; আর তার প্রতিফলন ঘটেছে বাহাত্তরের সংবিধানে। সব ধর্মের মানুষের অধিকার সেখানে সমুন্নত রাখা হয়েছে।”
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদী, মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড, তুরস্কের ফতেহ গুল ও জাকির নায়েকরা ইসলামের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ দিয়েছে ও দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “মুসলমানদের ধর্মীয় পিতা ইবরাহীম (আ.)। কিন্তু বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হতে কোনো অসুবিধা নাই। তেমনিভাবে আমার সোনার বাংলা জাতীয় সঙ্গীত হতেও ইসলামের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই।”
রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী গুরু সেবানন্দ বলেন, “ধর্মের বিভাজন নয়, ধর্মের সহাবস্থানের কথাই তুলে ধরা হয়েছে সব ধর্মে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরাও সে মতো তাদের জীবন পরিচালনা করতে চায়। সবার মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকুক।”
খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, “হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার দেশ বাংলাদেশ। এর জন্য সকলকে একসঙ্গে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে হবে। যদিও সম্প্রতিক সময়ে আমরা এর কিছুটা ব্যত্যয় হতে দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে গেলে সেখান থেকে উত্তরণ করা সম্ভব হবে।”

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *